logo

‘ভাই’ সেজে স্ত্রীকে বিয়ে দেন স্বামী

‘ভাই’ সেজে স্ত্রীকে বিয়ে দেন স্বামী
MARRIGE-2

বিয়ের পর বর জানতে পারেন তার নতুন স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত। আর বিয়ের মণ্ডপে ‘ভাই’ সেজে যিনি কন্যাদান করেছেন, তিনিই ওই নারীর আসল স্বামী। বিয়ে নিয়ে এমন সংঘবদ্ধ প্রতারণার ঘটনায় কনেসহ চক্রের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কনে ও আসল স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের।

ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, রাজ্যের গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবাদানি এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা। তিনি জবলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন। তার বিয়ের জন্য একজন উপযুক্ত পাত্রীর সন্ধান করছিল পরিবার।

সোনু তিওয়ারি মোরেনার সোনু ওরফে অজয় চৌহান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন এক প্রতিবেশী। অজয় চৌহান নাকি তার গরিব পালিত বোন রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগলের জন্য পাত্র খুঁজছেন।

পাত্র-পাত্রী পছন্দ হওয়ায় আলোচনার অগ্রগতি হয়। নির্ধারণ হয় বিয়ের দিনক্ষণ। বিয়ের জন্য কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে জবলপুর থেকে গোয়ালিয়রে আসেন রতন। হিন্দু রীতি অনুযায়ী গত ৭ মে বিয়েও সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে কনের মা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মায়া দেবী কন্যাদান করেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অজয় চৌহান কনের ভাই হিসেবে যোগ দেন। করেন কন্যাদান। এ ছাড়াও কনের পরিবারের সদস্য হিসেবে শিল্পী পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার এবং সত্যেন্দ্র চৌহানও বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের পর কনে গোয়ালিয়রে বরের বাড়িতে চলে যায়। তবে নতুন সংসারে রতন তার স্ত্রীর আচরণ ও ঘন ঘন মোবাইলে কথা বলা দেখে সন্দেহ করেন। একরাতে স্ত্রীর মোবাইল ঘেঁটে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে আবিষ্কার করেন যে, বিয়ের অনুষ্ঠানে যে ব্যক্তি কনের ‘ভাই’ সেজেছিলেন এবং কন্যাদান করেছিলেন, তিনি আসলে দীক্ষারই আসল স্বামী।

রতন শর্মার অভিযোগ, দীক্ষা ও অজয় চৌহান ২০২৪ সালে আগ্রায় একটি আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ে করেছিলেন। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। দীক্ষা মুদগল এবং তার আসল স্বামী সোনু ওরফে অজয় চৌহান পূর্বপরিকল্পিতভাবে টাকা ও গয়না হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়েছিল। বিয়েতে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয় বলে দাবি তার।

পুলিশের দারস্থ হন রতন শর্মা। দায়ের করেন এফআইআর। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ ও অলংকার হাতিয়ে থাকে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সোনু চৌহানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।