Advertisement

ভারতে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনার গ্রেপ্তার দাবি এইচআরএফের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভারতে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনার গ্রেপ্তার দাবি এইচআরএফের
গাজায় অভিযানে ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা ইতান গিলবোয়া। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাকে গ্রেপ্তার করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেলজিয়ামভিত্তিক এনজিও হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ)। ওই সেনা উত্তর ভারতে ছুটি কাটাচ্ছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার (২ জুন) এনজিওটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এইচআরএফের বর্তমানে হিমাচল প্রদেশে ছুটি কাটাতে আসা ইসরায়েলি নাগরিক ইতান গিলবোয়ার ‘অবিলম্বে গ্রেপ্তারের’ দাবিতে শনিবার ভারতের পুলিশ পরিষেবা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় অভিবাসন ব্যুরোর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।

এতে লেখা হয়েছে, এইচআরএফের তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য গিলবোয়া গাজায় প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে উল্লাসও করেছেন। এসব কাজ আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৬০ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়তে পারে।

এইচআরএফ বলেছে, প্রমাণ হিসেবে তদন্তকারীরা এমন ভিডিও ব্যবহার করেছেন, যেগুলোর অবস্থান ও স্থান যাচাই করা হয়েছে। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা সম্পর্কিত নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব তথ্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কীভাবে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করে।

এনজিওটির নাম রাখা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের নামে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। হিন্দ তখন মৃত স্বজনদের সঙ্গে গাড়িতে আটকা পড়ে ছিল এবং ফোনে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিল। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি প্যারামেডিকরাও পরে হামলায় নিহত হন।

বিশ্বকে হতবাক করা এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস পরেই গঠিত হওয়া এইচআরএফ, গিলবোয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করার জন্য সারা বিশ্ব থেকে আইনজীবী ও কর্মীদের একত্রিত করেছে।

এনজিওটির দাবি, গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি সৈন্যদের বিচারের আওতায় আনতে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজারের বেশি অভিযোগ দায়ের করেছে। এসব অভিযোগের বড় অংশই সৈন্যদের নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা ছবি, ভিডিও ও পোস্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

গিলবোয়ার জন্ম গাজায়। তবে ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরায়েলিদের প্রত্যাহারের পর তিনি ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যান।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে গিলবোয়া ও তার কয়েকজন ভাইবোন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে সেখানে ফিরে আসেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এইচআরএফের অভিযোগ, গিলবোয়া গাজায় ফিরে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ও শিশুদের খেলাধুলার স্থানগুলোর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করেন। সেগুলো সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সংস্থাটির দাবি, এসব কনটেন্ট ইসরায়েলি সৈন্যদের আগে শেয়ার করা বিতর্কিত ভিডিও ও ছবির ধরণ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছিল।

সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, গিলবোয়া খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় বেসামরিক ভবন ধ্বংসের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন এবং এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পরে তার মা এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

এইচআরএফের মতে, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে এসব ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল এবং নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল। গিলবোয়ার এসব কর্মকাণ্ড চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ভারত গুরুতর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহন করে। এ কারণে এইচআরএফের মহাপরিচালক দিয়াব আবু জাহজাহ ভারতের কাছে গিলবোয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।