পশ্চিম তীরে ৩ বছরে রেকর্ড ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত তিন বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে যত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা বিগত ১৭ বছরের মোট নিহতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এতে অঞ্চলটিতে সহিংসতা ও প্রাণহানির মাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম।
জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে অক্সফাম জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২৬৮ জন শিশুসহ ১ হাজার ২৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অথচ ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২২৫ জন শিশুসহ ১ হাজার ৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এই পুরো ২০ বছরের সময়কালে নিহতদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনেরও বেশি ছিল শিশু।
তুলনামূলকভাবে গত তিন বছরে ফিলিস্তিনিদের হাতে ১০ শিশুসহ ৪৩ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নিহত হয়েছেন, যা তার আগের ১৭ বছরে নিহত ৮৬ জনের (যাদের মধ্যে ১২ জন শিশু ছিল) চেয়ে কম।
অক্সফাম জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে গত তিন বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৪৬ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যেখানে তার আগের ১৪ বছরে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ হাজার।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৫৪০টিরও বেশি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অক্সফামের অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডবিষয়ক পলিসি লিড বা নীতিবিষয়ক প্রধান বুশরা খালিদি বলেন, পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান হত্যাকাণ্ড মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালানোর পাশাপাশি পশ্চিম তীরে সহিংসতার নজিরবিহীন বৃদ্ধিকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
এদিকে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পরদিন ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
সূত্র: আলজাজিরা
