logo

লকডাউন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন দেবে বিজেপি সরকার, দাবি মমতার 

লকডাউন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন দেবে বিজেপি সরকার, দাবি মমতার 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, লকডাউন ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন দেবে বিজেপি সরকার। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে যেমন লকডাউন জারি করা হয়েছিল, ঠিক তেমন করে লকডাউন দিয়ে নির্বাচন করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। 

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচনি প্রচারে এ অভিযোগ করেছেন তিনি।  

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে দুপুরে রাজ্যটির পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর এবং বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে দুটি নির্বাচনি প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

দুবরাজপুরের জনসভায় মমতা দাবি করেন, কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে যেমন লকডাউন জারি করা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে ফের রাজ্যে লকডাউন জারি করে নির্বাচন করতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। 

দুবরাজপুর জনসভায় ভারতজুড়ে ক্রমাগত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের জোগানে ঘাটতি ইস্যু নিয়ে মমতা বলেন, ‘আজ আমায় কয়েকজন সাংবাদিক বলছিলেন, ওরা (বিজেপি) নাকি আবার লকডাউনের কথা ভাবছে। যাতে মানুষ বাইরে বের হতে না পারে। আমি বললাম, ২০২১ সালে কোভিডের সময় লকডাউন ছিল, তখন যদি নির্বাচন করতে পারে, এখন তুমি যতই লকডাউন করো, মানুষের মুখে তালা-চাবি লাগাতে পারবে না। মানুষের হাতেও তালা-চাবি লাগাতে পারবে না। ওটা মানুষের নিজস্ব অধিকার।’

রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও ঘাটতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রশ্ন, ‘একটা মানুষের রান্নার গ্যাস পেতে যদি ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়, তবে সে কি করে রান্না করবে? কার মাথা খাবে? ছেলে-মেয়েদের কি খাওয়াবে? তারপর বিজেপি সরকার যেখানে আছে , ওরা বলছে সেখানে মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়া যাবে না। বাংলা ভাষায় কথা বলা যাবে না, বললেই আপনি বাংলাদেশি। ধরে ধরে মারবে, অত্যাচার করবে, দেখে দেখে নাম কাটবে।’ 

মমতার চ্যালেঞ্জ—‘ওরা আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে, আমরা তাদের বেলাইন করে দেব। নির্বাচনের পর ওদের পিঠে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না। আমি ওদের সে জায়গায় নিয়ে যাব।’ 

এদিনের নির্বাচনি প্রচারণা থেকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে দায়ী করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আসন্ন বিধানসভার নির্বাচন অন্য নির্বাচন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের সরকার এনআরসি করবে, তারপরে করবে ডি-লিমিটেশন, তারপরে সেন্সাসের নামে এখনও যাদের ভোটার তালিকায় নাম আছে, তাদের অর্ধেকের নাম কেটে দেবে। এটাই ওদের পরিকল্পনা। এ কারণে নিজের সম্মান, অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। নিজেদের ঠিকানা বাঁচাতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন। কারণ তৃণমূল সরকার কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেবে না, এনআরসি করতে দেবে না।’ 

তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, ‘বাংলায় যদি থাকতে হয় এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হয়, তবে তৃণমূলকে ভোট দিন। বিনামূল্যে রেশন, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, রূপশ্রী ও স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আমার দলকে ভোট দিন।’