logo

বেলারুশে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠাল রাশিয়া, বাল্টিকে উত্তেজনা

বেলারুশে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠাল রাশিয়া, বাল্টিকে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ ও বাল্টিক অঞ্চলে ড্রোন তৎপরতাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সদস্যদর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে বেলারুশে সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণাবিক গোলাবারুদ পাঠিয়েছে রাশিয়া। মস্কো একইসঙ্গে কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাল্টিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার পারমাণবিক পেশী ফুলানো ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিগহ কয়েক বছরের বধ্যে মস্কো অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক মহড়া চালাচ্ছে। এই মহড়ায় প্রায় ৬৪ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছে। মহড়ার উদ্দেশ্য হলো ‘আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি ও ব্যবহার’ বিষয়ে নিজেদের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

মহড়ার অংশ হিসেবে রাশিয়া একটি বোরি-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন, ইল-৩৮ ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী বিমান, কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত একটি মিগ-৩১ এবং আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তি মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশ প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের অবস্থান এলাকার ফিল্ড স্টোরেজ সুবিধাগুলোতে পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এই মহড়াগুলোতে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর, দূরপাল্লার বিমান বাহিনী এবং লেনিনগ্রাদ ও মধ্য সামরিক জেলার ইউনিটগুলো অংশগ্রহণ করে।

ক্রেমলিন আরও জানায়, বেলারুশের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট ভ্রাম্যমাণ ইস্কান্দার-এম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র গ্রহণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এর মধ্যে উৎক্ষেপণ যানে যুদ্ধাস্ত্র বোঝাই করাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাশিয়ার পারমাণবিক মহড়ায় সাধারণত ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ত্রিপল দিয়ে ঢাকা একটি সামরিক ট্রাক ন্যূনতম নিরাপত্তায় চলাচল করছে। অন্য ভিডিওগুলোতে পারমাণবিক সাবমেরিন, বিমান এবং যুদ্ধজাহাজ দেখানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার থেকে রাশিয়া ও বেলারুশজুড়ে শুরু হওয়া তিন দিনের এই মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মস্কো বলছে, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে তারা পশ্চিমাদের সঙ্গে অস্তিত্বের লড়াই চালাচ্ছে।

যুদ্ধ চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভের সমর্থনে পশ্চিমাদের খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করার সতর্কবার্তা হিসেবে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেন ও কিছু পশ্চিমা নেতা এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন শক্তিপ্রদর্শন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

বাল্টিকে উত্তেজনা বাড়ছে

মস্কো বাল্টিক দেশগুলোকে উত্তর রাশিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ন্যাটো।

ইউক্রেনের শক্তিশালী সমর্থক বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো পাল্টা অভিযোগ করেছে, মসেকা ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোকে রাশিয়ায় অবস্থিত তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে সরিয়ে নিজেদের আকাশসীমায় নিয়ে আসছে।

বুধবার লিথুয়ানিয়ার শীর্ষ কূটনীতিকের মন্তব্যকে ক্রেমলিন ‘উন্মাদনা’ বলে সমালোচনা করেছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেছিলেন, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ ছিটমহলে অনুপ্রবেশে ন্যাটোর সক্ষমতা মস্কোকে দেখাতে হবে।

বাল্টিক উপকূলে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের মাঝখানে কালিনিনগ্রাদ অবস্থিত। এর জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ এবং অত্যন্ত সামরিকায়িত একটি শহর। শহরটি রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।