যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে, এর মধ্যেই লেবাননে অন্তত দুটি ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) হওয়া হামলা দুটির একটি হয়েছে লেবাননের টায়ার শহরের একটি হাসপাতালের কাছে। আর অন্যটি হয়েছে বেকা উপত্যকার মাশঘারা শহরে।
এছাড়া রাজধানী বৈরুতের আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তেও দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে আলজাজিরা। সংবাদমাধ্যমটির লেবানন প্রতিনিধি হিদি পিট জানাচ্ছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলি হামলার সমাপ্তি ঘটবে, এমন ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এটি ঠিক কতটা দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনও অস্পষ্ট।’
এদিকে ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ইসরায়েলও আগে থেকে জানত না। অন্য সবার মতো তাদের কাছেও এটি শেষ মুহূর্তের নোটিশ হিসেবে এসেছে।
আল জাজিরার জর্ডান প্রতিনিধি রব ম্যাকব্রাইড বলেছেন, ‘মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া চুক্তিটি কি গ্রহণ করা হয়েছে, নাকি এটি কেবল আলোচনা শুরুর একটি ভিত্তি মাত্র, তা এখনও অস্পষ্ট। যদি এটি আলোচনা শুরুর ভিত্তি হয়ে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহ ইসরায়েল কঠোর পরিশ্রম করবে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে। যুক্তরাষ্ট্রকে আবার এই যুদ্ধবিরতি থেকে সরিয়ে আনার জন্য ইসরায়েলকে অনেক কাজ করতে হবে। তাদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে আরেকটি যুদ্ধ।’
আলজাজিরার এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘ইসরায়েল শুধু বোঝার চেষ্টা করবে যে, এই সবকিছু তাদের কোথায় দাঁড় করিয়েছে এবং ট্রাম্প যদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েই থাকেন, তবে তারা এই চুক্তিকে কোনোভাবে অগ্রাহ্য করতে পারবে কিনা। যদি ট্রাম্প প্রধান অংশীদার হিসেবে বলেন, যুদ্ধবিরতি হবেই, তবে ইসরায়েল কীভাবে তা প্রতিরোধ করবে সেটি দেখাই এখন বড় বিষয়।’