logo

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪৬

রয়টার্স
রয়টার্স
স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৪৬

মধ্য স্পেনের টোলেডোর কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে একই রেলপথে এটি দ্বিতীয় বড় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হওয়ায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় সংস্থা রেনফে পরিচালিত একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ইরিও পরিচালিত আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ইরিওর দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা দিয়ে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দুর্ঘটনাস্থল কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাডিলার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকটি বগি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। ইরিওর ট্রেনে একটি শিশুসহ ১৪৭ জন এবং রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য টোলেডো, আলকাজার দে সান হুয়ান ও সিউদাদ রিয়ালের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশটির রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছিল, দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, ট্রেন দুটির মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কা লাগার কারণে মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া বলেছেন, দুর্ঘটনাস্থলের ছবিগুলো থেকে স্পষ্ট যে দেশটি ‘একটি বড় বিপর্যয়ের’ মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এটি ছিল একটি ভয়াবহ সংঘর্ষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু কতজন মারা গেছেন, তা জানার অপেক্ষায় নেই; বরং কতজনের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন, সেটিও জানার চেষ্টা করছি। ছবিগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘টোলেডোতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। সব ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার সহমর্মিতা, সংহতি ও সমর্থন রইল।’