logo

ইউক্রেনে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ‘বিদ্যুৎবিহীন’ ৮০ শতাংশ এলাকা

ইউক্রেনে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ‘বিদ্যুৎবিহীন’ ৮০ শতাংশ এলাকা

আবুধাবিতে নিরাপত্তা আলোচনার কিছুক্ষণ পরেই ইউক্রেনে হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ সময় দেশটির রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও চারজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে মুহুর্মুহু এই হামলায় প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা অনির্দিষ্ঠকালের জন্য বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। দেশটির বিমানবাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরের সময়ে টানা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের খবরও ছিল। সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি আবুধাবিতে কিয়েভ, মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার কিছুক্ষণ পরেই ঘটে।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী ৩৯৬টি সামরিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে, এরমধ্যে ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৭৫টি ড্রোন রয়েছে। বিমানবাহিনী হাইপারসনিক ‘সিরকন’ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র এবং কেএইচ-২২/কেএইচ-৩২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করেছে। রুশ বাহিনীর ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালিয়েছে।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স টেলিগ্রাম চ্যানেল মনিটরিংওয়ার সাম্প্রতিক আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুগুলোকে চিত্রিত করেছে, যার মধ্যে অধিকৃত অঞ্চলের কাছাকাছি খারকিভ, ডিনিপ্রো ও জাপোরিঝিয়া শহরগুলোতেও উল্লেখযোগ্য হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, চলতি মাসে রাজধানী কিয়েভ ছিল হামলার কেন্দ্রবিন্দু।

রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা ইউকেআরএনার্গো’র সিইও ভিটালি জাইচেঙ্কো কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, কিয়েভের ‘বাম তীর’ ডিনিপ্রো নদীর পূর্ব পাশের শহরাঞ্চল বর্তমানে তীব্র তাপ সংকটের মুখে পড়েছে, যা ধীরে ধীরে ডান তীরেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, শনিবার দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চল জরুরি ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হবে।

কিয়েভের পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবকাঠামোতে ক্ষতির কারণে পেচেরস্কের ডান তীর থেকে বাম তীরের দারনিৎসিয়া পর্যন্ত ডিনিপ্রো নদী পার হওয়া মেট্রো লাইনের একটি অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য মেট্রো লাইন এখনও সচল রয়েছে।

হলোসিভস্কি জেলায় একটি শাহেদ ড্রোন হামলায় ‘রোশেন’ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর মালিকানাধীন একটি কনফেকশনারি কোম্পানি ছিল। কিয়েভের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, ওই হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। ডেসনিয়ানস্কি, ডিনিপ্রোভস্কি এবং সোলোমিয়ানস্কি জেলাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, কিয়েভের প্রায় ১২ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার ভবন এখনো হিটিং সার্ভিস থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে স্থানীয় জ্বালানি কর্মীরা গতকালই এই সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নামাতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব ভবনের অনেকগুলো ইতোমধ্যে দুই বার সংযুক্ত করা হয়েছিল, অথবা ৯ ও ২০ জানুয়ারির হামলার পর পুনরায় গরমের সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল।

খারকিভেও রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন এবং শহরজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, ১৩৪ জন উদ্ধারকর্মী, ৩৪টি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট, পুলিশ, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং ইউটিলিটি কর্মীরা হামলার পরিণতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

রাশিয়ার ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হিমাঙ্কের তাপমাত্রার মধ্যে অনেক শহর বিদ্যুৎ, তাপ ও পানির সংকটে পড়েছে। ২০২২ সাল থেকে প্রতি শীতেই রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে, ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

চলতি শীতটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে ঠান্ডা বলে মনে করা হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাপ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।