ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরানে এক হামলায় তারা ইরানের কুদস ফোর্সের লেবানন শাখার কমান্ডার দাউদ আলি জাদেহকে হত্যা করেছে। বিবিসি বাংলার খবর জানায়, আইডিএফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেছেন, ‘কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও লেবানন কোরের কমান্ডার দাউদ আলি জাদেহকে লক্ষ্যবস্তু করে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে হামলা করেছে যুদ্ধবিমান।’
কুদস ফোর্স হলো ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি শাখা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের ডজনখানেক পুলিশ ও বাসিজ ফোর্সের সদর দফতরকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ‘যেসব সদর দফতরে হামলা করা হয়েছে সেগুলো পুরো দেশে তাদের স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য ইরানের সন্ত্রাসী শাসকরা ব্যবহার করছিল।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তেহরান। সৌদি আবর, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৮০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন। ১২ দিনের সংঘাত শেষে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।