ভারতে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধীরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করতে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে রাজপথে প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দেওয়ার আইনের বৈধতা নিয়েও আইনি লড়াইয়ে নামছে তারা। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ওই আইন নির্বাচন কমিশনারদের জবাবদিহির বাইরে রাখার সুযোগ তৈরি করেছে।
এ কর্মসূচি ঘিরে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা দিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবেরও সকালে সেখানে পৌঁছানোর কথা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বেঙ্গালুরুতে এক বিবৃতিতে বলেন, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন একটি আইন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতিও এমন দায়মুক্তি ভোগ করেন না।
খাড়গে অভিযোগ করেন, এই সুরক্ষা দেওয়ার পর ভোট চুরি, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কারসাজি এবং নির্বাচনি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যত ভুলই করুন না কেন, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে আজীবন জবাবদিহির বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
সিইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ২০২৩ সালের দায়মুক্তি আইনের বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের। অবসরের পরও নির্বাচন কমিশনারদের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বাছাইপ্রক্রিয়া থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে স্থান পাবে।
এ ছাড়া ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থার (ইটিপিবিএস) মাধ্যমে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ধরবে বিরোধী জোট। এসব অভিযোগের পক্ষে নথিপত্রও উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
কংগ্রেস তার লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্যকে দিল্লিতে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাহুল গান্ধী গোয়া সফর স্থগিত করেছেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ও অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
গত ৬ অক্টোবর সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করে ইন্ডিয়া জোট। ওই মিছিলের পর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করা হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। এর মধ্যে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভ এবং রাজঘাটে অবস্থান কর্মসূচিও রয়েছে।
জোটের নেতাদের দাবি, শনিবার ও রোববার দিল্লিতে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং সাত হাজারের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়া প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।
