ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই এ ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এক বিবৃতিতে জানান, হামলার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিডে যে ক্ষতি হয়েছে, তা স্থানীয় এবং উল্লেখযোগ্য নয়।'
তিনি আরও দাবি করেন, হাইফাসহ উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরান এবার ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করে।
এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করেছে যে তারা হাইফা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আশদোদের দিকে হামলা চালিয়েছে। তবে আশদোদের স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় আবারও হামলা হলে তারা “শূন্য সংযম” (জিরো রেস্ট্রেইন্ট) নীতি অনুসরণ করবে।
এদিকে, একই দিনে উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এবং ইরানকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এই উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা