logo

আবার আলোচনায় বসার খবর দিচ্ছেন ট্রাম্প, কিছুই জানে না তেহরান

আবার আলোচনায় বসার খবর দিচ্ছেন ট্রাম্প, কিছুই জানে না তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার দ্বিতীয় দফা আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে কিছু জানে না তারা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, ‘আপনাদের ওখানেই (পাকিস্তানে) থাকা উচিত। কারণ, আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা ওখানে যাওয়ার জন্যই বেশি আগ্রহী।’

তবে এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না ইরানের কাছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি স্থানীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানিয়েছে, ‘পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

সূত্রটি জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আগের দফা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তান দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রচেষ্টায় তেহরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, তবে কিছুই এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান।

ধারণা করা হচ্ছিল, দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকটি ইউরোপের কোনো শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ট্রাম্প পরবর্তীকালে নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, আলোচনার জন্য ইসলামাবাদই এখন তাদের প্রথম পছন্দ। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ওখানেই (পাকিস্তানে) থাকা উচিত। কারণ, আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা ওখানে যাওয়ার জন্যই বেশি আগ্রহী।’

আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আসিম মুনির দারুণ কাজ করছেন।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং সরকারের ওপর ট্রাম্পের এই আস্থা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইসলামাবাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অবরোধ তুলে নিতে সৌদি আরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ প্রয়োগ করেছে বলে খবর এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, আরব দেশগুলো এই অবরোধের পক্ষে আছে। কিন্তু সৌদি আরব বলছে, তারা চায় ট্রাম্প প্রশাসন জেদ ছেড়ে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুক।

ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ‘রিয়াদ আশঙ্কা করছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে।’

সৌদি কর্মকর্তাদের ভয় হলো, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব বন্ধ করে দিতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরব তাদের তেলের একটি বড় অংশ লোহিত সাগরের পাইপলাইন দিয়ে রপ্তানি করছে। যদি হুতিরা লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী শুক্রবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ব্রিটেন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন অবরোধের পক্ষে নেই। বরং ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে তারা একটি শান্তি মিশন শুরু করতে চায়, যাতে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই এই নৌপথটি সবার জন্য খুলে দেওয়া যায়।

এদিকে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বন্দরগুলো অনিরাপদ হলে এই অঞ্চলের আর কোনো দেশের বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। অন্যদিকে, চীন এই অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘গায়ের জোরে বিশ্ব চালানোর চেষ্টা করছেন বা জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছেন।’

এদিকে প্রথম দিনেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ অবরোধের ঘোষণা। দেখা গেছে, ইরানের অন্তত তিনটি তেলের জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় থাকা একটি চীনা জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের মতো কঠোর অবস্থান শুধু শত্রু দেশগুলো নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ যেমন সৌদি আরব, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সঙ্গেও তাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।