logo
Advertisement

‘চিকেনস নেকের’ নিরাপত্তায় বিশেষ জোর, পরিদর্শন করলেন অমিত শাহ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
‘চিকেনস নেকের’ নিরাপত্তায় বিশেষ জোর, পরিদর্শন করলেন অমিত শাহ
‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো শিলিগুড়ি সফরে সীমান্ত নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিদর্শনের পাশাপাশি ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা নিয়ে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তিনি।

Advertisement

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় শিলিগুড়ির জুমাগাছে বিএসএফের ১৮তম ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছান অমিত শাহ। এরপর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সশরীরে পরিদর্শন করেন। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটার মতো স্পর্শকাতর এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন শাহ।

পরে শিলিগুড়ির জুম্মাগছ বর্ডার আউটপোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে ‘প্রহরী সম্মেলনে’ যোগ দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি জওয়ানদের সঙ্গে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং একটি প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় ৭৭ কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রবীণ কুমারসহ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সীমান্ত পরিদর্শন শেষে দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে অবস্থিত রাজ্য সরকারের সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’য় উপস্থিত হন। সেখানে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি।

বৈঠকে মূলত শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, উত্তরবঙ্গের আইজি সুকেশ জৈন এবং দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুলিশ ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং উত্তরবঙ্গের আট জেলার বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র (আধার/ভোটার কার্ড), গবাদি পশু ও মানব পাচার এবং সীমান্ত নাশকতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। এসব অপরাধ কঠোরহস্তে দমনে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

নজরে ‘চিকেনস নেক’

এবারের সফরে আলোচনার অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সংযুক্ত করেছে। চীন, বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এই করিডরের সুরক্ষায় আধুনিক নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন এই করিডরের অদূরে অবস্থিত চীন সীমান্তই ছিল মূল চিন্তার কারণ; কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান সীমান্তকেও সমভাবে নজরদারির আওতায় আনার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের কর্মসূচি শেষ করে শনিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে কলকাতায় পৌঁছান অমিত শাহ। রাতে তিনি আলিপুরের ‘সৌজন্য’ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১১টায় এই গেস্ট হাউসেই পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি।

এরপর দুপুর ২টায় আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘ওয়ার্ড মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধন করবেন এবং বিকেল ৪টায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আমুল বেঙ্গল ডেইরির নতুন দই উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কদমতলা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানে রাত্রীযাপন করেন।