logo
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম

যুক্তরাষ্ট্রে টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ নাবিলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হিশামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।

Advertisement

অভিযুক্ত হিশামের অতীত রেকর্ড ঘেটে তার বিরুদ্ধে মারধর, চুরি ও পারিবারিক সহিংসতার মতো একাধিক অভিযোগের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমার বোন আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)।

পুলিশ জানিয়েছে, হিশাম আবুগারবিয়েহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে লিমনের দেহাবশেষ হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিজের নিচে লিমনের দেহাবশেষ হিশামই রেখে আসেন।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিকটবর্তী লেক ফরেস্ট কমিউনিটির একটি বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়েছে সেখানে যায় শেরিফ অফিসের ডেপুটি কর্মকর্তারা। সেখান থেকে হিশামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটক রাখা, প্রমাণ বিকৃত করা, মৃত্যুর খবর জানাতে ব্যর্থতা ও বেআইনিভাবে মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গত ১৬ এপ্রিল লিমনের নিখোঁজ হওয়ার পর হিশামকে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি সহযোগিতা বন্ধ করে দিলে শুক্রবার পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর আটকে রাখেন। পরে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গেলে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। নিখোঁজের দিন সকালে দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন তাদের এক বন্ধু। পরে গত ২১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন লিমন। তাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে অ্যাভালন হাইটস বুলেভার্ডে অবস্থিত তার বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি করছেন বৃষ্টি। সর্বশেষ ওই দিন তাকে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের ১২১ ইউএসএফ সুইটগাম লেনে অবস্থিত এনইএস বিল্ডিংয়ে দেখা যায়।

বাংলাদেশে থাকা লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ ফক্স ১৩-কে বলেন, ‘তিনি খুবই দায়িত্বশীল ও সময়নিষ্ঠ মানুষ। আর সে কারণেই পরিস্থিতিটা আমাদের কাছে এত অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক…মানে খুবই সন্দেহজনক।’ গত ১৩ এপ্রিল জুবায়ের তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। লিমন তাকে জানায়, তিনি থিসিস নিয়ে কাজ করছেন এবং খুব ব্যস্ত থাকবেন। জামিল ও বৃষ্টি ভবিষ্যতে বিয়ে করার বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু প্রথমে তারা তাদের পিএইচডি শেষ করতে চান।

বৃষ্টির ভাই জাহিদ প্রান্ত জানান, বৃষ্টি সাধারণত প্রতিদিন তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তিনি বলেন, এমন একটা দিনও যায়নি যেদিন ওর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। আমার পরিবার একেবারে বিধ্বস্ত।

সূত্র: সিবিএস নিউজ