Advertisement
ভারতের প্রধান বিচারপতি

‘বেকার তরুণরা তেলাপোকার মতো, তারা অ্যাক্টিভিস্ট সেজে সিস্টেমকে আক্রমণ করে’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘বেকার তরুণরা তেলাপোকার মতো, তারা অ্যাক্টিভিস্ট সেজে সিস্টেমকে আক্রমণ করে’
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। ছবি: সংগৃহীত

বেকার তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে বির্তকের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত।

শনিবার (১৬ মে) সাম্প্রতিক ওই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন তিনি। সূর্যকান্ত জোর দিয়ে বলেন, তার মন্তব্যকে ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। মূলত ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রি’ ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

গতকাল শুক্রবার ওই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে পরদিন স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থান করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গতকাল একটি তুচ্ছ মামলার শুনানির সময় আমার দেওয়া মৌখিক মন্তব্যকে গণমাধ্যমের একাংশ যেভাবে বিকৃতভাবে উদ্ধৃত করেছে, তা পড়ে আমি ব্যথিত।’

নিজের মন্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে সূর্যকান্ত বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে তাদেরই সমালোচনা করেছিলাম, যারা জাল ও ভুয়া ডিগ্রির সাহায্যে বার (আইন পেশা)-এর মতো পেশায় প্রবেশ করেছে। একই ধরনের ব্যক্তিরা গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য মহৎ পেশাতেও গোপনে প্রবেশ করেছে, আর তাই তারা পরজীবীর মতো।’

ভারতীয় যুবকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ নিয়েই গর্বিত নই, ভারতের প্রত্যেক যুবক আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, ভারতীয় যুবকদের আমার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। আমিও তাদের একটি উন্নত ভারতের স্তম্ভ হিসেবে দেখি।’

সম্প্রতি একজন আইনজীবীর সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি চেয়ে করা আবেদনের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কিছু বেকার তরুণ ও ব্যক্তিদের সম্পর্কে কড়া মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্য পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। যদিও তার দাবি, বক্তব্যটি ‘খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হচ্ছে।

শুক্রবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর যৌথ বেঞ্চ আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি নেওয়ার চেষ্টার সমালোচনা করে পর্যবেক্ষণ দেন যে, এই ধরনের স্বীকৃতি আদালত থেকে দেওয়া হয়। এটি এমন কিছু নয় যা ‘তাড়াহুড়া করে’ নিতে হবে।

আবেদনকারীর আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপের উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের সমাজে এমন কিছু পরজীবী আছে, যারা পুরো সিস্টেমটার ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আর আপনি কি তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?’

তিনি আরও বলেন, ‘তেলাপোকার মতো কিছু যুবক আছে, যারা কোনো চাকরি পায় না বা পেশায় কোনো জায়গা পায় না। তাদের মধ্যে কেউ সাংবাদিক হয়, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আরটিআই কর্মী ও অন্যান্য কর্মী সেজে সিস্টেমসহ সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’

দুই বিচারপতির যৌথ বেঞ্চটি কিছু ব্যক্তির আইন ডিগ্রির সত্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, আইন পেশায় জাল যোগ্যতার বিষয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। বেঞ্চটি আরও বলেছে, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তাদের ‘ভোটের প্রয়োজন’।

আবেদনকারী পরে বেঞ্চের সামনে ক্ষমা চেয়ে আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি চান। তার ওই আবেদন পরে মঞ্জুর করেন আদালত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া