যুদ্ধ বন্ধের উপায় জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের উপায় জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে থামানো গেলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানের একটি স্কুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা শেষমুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলাম, যাতে যুদ্ধে জড়াতে না হয়, কিন্তু অন্য পক্ষগুলো যুদ্ধে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন যুদ্ধ বন্ধ করার উপায় হলো হামলাকারীদের থামানো।
তিনি বলেন, অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুদ্ধ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার আগেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং হামলা বন্ধ করার বিষয়ে হামলাকারীদের বাধ্য করে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।
চলমান এই সংঘাত বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি চলছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।