এবার নিজ দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোকে ট্রাম্পের হুমকি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের খবর বিকৃতির অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার।
শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন জানান, সম্প্রচারমাধ্যমকে অবশ্যই জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। অন্যথায় তারা লাইসেন্স হারাবে। যেসব সম্প্রচারকারী সংস্থা গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে তাদের লাইসেন্স নবায়নের সময়ের আগেই শুধরে নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রেন্ডন।
ব্রেন্ডন কারের বিরুদ্ধে এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক স্বার্থে গণমাধ্যমের ওপর চাপ তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। গত বছর জনপ্রিয় টকশো হোস্ট জিমি কিমেলের কড়া সমালোচনার জেরে এবিসি চ্যানেলকে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন তিনি। সে সময় কার বলেছিলেন, ‘আমরা এটি সহজভাবেও করতে পারি, আবার কঠিনভাবেও।’ এর পরপরই কিমেলের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রদিবেদেনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ডন কারের সর্বশেষ মন্তব্যে মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা একে সংবাদ সেন্সর করার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের (এফআইআরই) পরিচালক অ্যারন টের যুদ্ধের নেতিবাচক কভারেজ বন্ধ করার চেষ্টা করার জন্য কারের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে তাদের পরিচালিত যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।
যুদ্ধের সংবাদ প্রচার নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ
মূলত ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ডন কারের সাম্প্রতিক বিবৃতিটি এসেছে। ট্রাম্প ‘ফেক নিউজ মিডিয়া’র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ওই পোস্টে লেখেন, সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভুল খবর প্রচার করছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, কয়েক দিন আগে ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, কিন্তু বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাঁচটির মধ্যে চারটির কোনো ক্ষতিই হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যেই ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। অথচ এর বিপরীতে সংবাদ প্রতিবেদনগুলো ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। নিচু জাতের ‘সংবাদমাধ্যম’ এবং গণমাধ্যম আসলে চায় আমরা যুদ্ধে হেরে যাই।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা ভিন্নমত এবং সমালোচনামূলক সংবাদ দমনের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। এর প্রেক্ষিতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। কুইনিপিয়াকের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধী।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ সফলভাবে এগোচ্ছে। যদিও ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। কেনটাকিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, আমরা জিতেছি। প্রথম এক ঘণ্টাতেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, প্রশাসন জনমতকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে নেওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমকে দায়ী করেছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার এবং ইতিবাচক হেডলাইন লেখার আহ্বান জানান। তিনি সিএনএনের সমালোচনা করে বলেন, ডেভিড এলিসন যত দ্রুত এই নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নেবেন, ততই মঙ্গল।