logo

ইরানে যুদ্ধ সীমিত করার প্রস্তাব আটকে দিয়েছে মার্কিন সিনেট

ইরানে যুদ্ধ সীমিত করার প্রস্তাব আটকে দিয়েছে মার্কিন সিনেট

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আটকে দিয়েছেন রিপাবলিকানরা।

ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়, সিনেটে উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। তবে বুধবার (৪ মার্চ) সিনেটের ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়নি।

সিনেটে ভোটের আগে ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চান প্রেসিডেন্ট দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যায় মনোযোগ দিন, নতুন করে দেশকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ান।’

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা টর্পেডোর আঘাতে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা গতি কমাচ্ছি না বরং অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অন্তত ১০টি দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। এতে পুরো অঞ্চল দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ রয়েছেন ঊর্ধ্বতন নেতা ও কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে অস্বীকৃতি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হুমকি হয়ে উঠেছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘শিগগিরই আরও বড় আকারের সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিসর ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।’

এদিকে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি নামে এই সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’