সৌদির দৈনিক তেল উৎপাদন ক্ষমতা ৬ লাখ ব্যারেল কমলো

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির তেল উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল কমে গেছে। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে বেশ কয়েকটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, যুদ্ধের সময় রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং ইয়ানবু শিল্প নগরীর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এসব হামলায় সৌদি এনার্জি কোম্পানির শিল্প নিরাপত্তা ইউনিটের একজন সদস্য নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। এই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যা বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে এই অস্ত্রবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের দাবি—লেবাননও এই অস্ত্রবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলার ফলে শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও কাতার বারবার ইরানের হামলার শিকার হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বনেতারা লেবাননকেও এই অস্ত্রবিরতির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।