নেতানিয়াহুর ফাঁকা বুলিতে বিরক্ত ইসরায়েলিরা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলি নাগরিকদের কতটা অবহেলা করেছে, তা নিয়ে আস্ত একটা সংবাদপত্র ছাপিয়ে ফেলা সম্ভব কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় দিনের পর দিন আলোচনা চললেও তা শেষ হবে না। তবে মাঝে মাঝে একটিমাত্র ছবিই পুরো পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে।
উদাহরণ হিসেবে সেই পোর্টেবল এয়ার রেইড শেল্টার বা ভ্রাম্যমাণ বিমান হামলা আশ্রয়কেন্দ্রটির কথা ধরা যাক, যা আরদ শহরে (লিকুদ পার্টির মেয়রের শাসিত একটি ডানপন্থী শহর) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থান পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছিল। আশ্রয়কেন্দ্রটি তার সঙ্গেই এসেছিল, আবার ফেরার সময় তার সঙ্গেই ফিরে গেছে। তিনি জনগণের থেকে এতটাই বিচ্ছিন্ন যে, ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য রেখে আসার মতো ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখাতে পারেননি। আসলে ওটি তার কোনো কাজে আসবে না বলেই তিনি সেটি নিয়ে গেছেন। চারপাশের মানুষের কথা ভাবার মতো সময় বা মানসিকতা নেই আত্মকেন্দ্রিক নেতানিয়াহুর।
আরেকটি চিত্র তার স্ত্রীর। যিনি কি না আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। নিজের ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে তিনি বর্ণনা করছেন তার দুই সন্তানের ‘দুর্ভোগের’ কথা। তারা কেবল প্রধানমন্ত্রীর সন্তান বলেই নাকি অবজ্ঞা আর ‘সহিংসতার’ শিকার হচ্ছে! অথচ গত আড়াই বছর ধরে ইসরায়েলের লাখ লাখ শিশু যে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তির দেখা পায়নি, সেই বিষয়ে তার মুখে একটি শব্দও নেই। এই শিশুরা নিরাপদ কক্ষে রাত কাটায়, সাইরেন শুনলে আশ্রয়ের জন্য দৌড়ায়, স্কুলে যেতে পারে না, তারা আতঙ্কে বিছানায় প্রস্রাব করে দেয় আর মোবাইল স্ক্রিণে বুঁদ হয়ে থাকা এই শিশুরা একটা স্বাভাবিক জীবনের জন্য হাহাকার করছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর জন্য গাড়ি, চালক, দেহরক্ষী, সচিব, অফিস আর অঢেল অর্থের কমতি নেই। কিন্তু বিনিময়ে দেশ কী পাচ্ছে? কিচ্ছু না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিজেকে ‘ফার্স্ট লেডি’ দাবি করা এই নারীকে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত একটি জনপদেও দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট-পত্নী মিকাল হারজোগের মতো নিজের পদমর্যাদাকে তিনি আর্তমানবতার সেবায় কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সারা নেতানিয়াহু নিজের জন্য যে পদবি ব্যবহার করেন, তা তার প্রেস উইংয়ের প্রচার করা ছবিগুলোর মতোই হাস্যকর। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মেলানিয়া ট্রাম্পের এক সম্মেলনে সারার পাশে বসেছিলেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মিরোলা বেসিরোভিচ। সারার করুণ পারফরম্যান্সের বিপরীতে বেসিরোভিচের বিরক্তভরা মুখভঙ্গি আর চোখ বাঁকানোর দৃশ্যটিই ছিল উপযুক্ত দৃশ্য।
তৃতীয় আরেকটি চিত্র দেখতে চান? তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দিকে তাকান। উত্তরের শহরগুলোর মেয়রদের সঙ্গে এক জুম কলে তিনি দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখেও মানুষ যাতে শহর ছেড়ে না যায়, সে জন্য মেয়রদের ‘প্রয়োজনীয় সব কিছু’ করতে হবে।
কাদের কাছে তিনি এই দাবি করছেন? কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্নের কাছে? যাকে তিনি একঘরে করে রেখেছেন। নাকি মোশাভ মারগালিওটের চেয়ারম্যান ইতান দাভিদির কাছে? যার এলাকার এক তরুণী স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যাওয়ার পর যিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এমন দাবি করতে হলে হয় আপনার অসীম নৈতিক অবস্থান থাকতে হবে, না হয় থাকতে হবে চরম ধৃষ্টতা।
নেতানিয়াহুর কী অধিকার আছে এই মানুষদের ‘কামানের খোরাক’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে বলার? তিনি কি তাদের ন্যূনতম প্রয়োজনগুলো মিটিয়েছেন? ৭ অক্টোবরের পর তিনি কি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাকে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন? উল্টো গত সপ্তাহেই সরকার এই অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা খাত থেকে ১৫ কোটি শেকল (৪৮ মিলিয়ন ডলার) কেটে নিয়ে কট্টর অর্থোডক্স বা হারিদি গোষ্ঠীকে উপঢৌকন দিয়েছে।
গত সাড়ে তিন বছরে এই সরকার হারিদিদের পেছনে দুহাত ভরে অর্থ খরচ করেছে। অথচ যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেই সাধারণ মানুষদের ত্যাগ করেছে নেতানিয়াহু সরকার। ২০২৬ সালের বাজেটেও শুধু তাদের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০০ কোটি শেকল। হারিদি আর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের চাহিদার অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উত্তরের সীমান্তবর্তী শহরগুলোর বাসিন্দাদের জন্য নেতানিয়াহুর কাছে কেবল ‘মিষ্টি কথা’ ছাড়া আর কিছু নেই।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নেতানিয়াহুকে তত বেশি ওই অঞ্চলে দেখা যাবে। তিনি হাজার কোটি শেকলের অনুদান ও ‘পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের’ লম্বা চওড়া কথা বলবেন। সামরিক সাফল্য আর নিরাপত্তার গালগল্প শোনাবেন। গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি কিরিয়াত শমোনায় বিশেষ সভা করে বলেছিলেন, ‘আপনারা বিশ্বাসই করতে পারবেন না এখানে কী হতে যাচ্ছে! ট্রেন আসবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে, হাই-টেক কারখানা হবে।’ কিন্তু আসল সত্য হলো, যখন তিনি ‘হিজবুল্লাহর হুমকি দূর করার’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, তখন তিনি ভালো করেই জানতেন আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন। এটি ছিল এক চরম মিথ্যাবাদীর চরম এক মিথ্যাচার।
নেতানিয়াহুর সেই অন্তঃসারশূন্য বুলি আর চটকদার স্লোগানের বিপরীতে এই সপ্তাহে আমরা শুনতে পেলাম মেয়র স্টার্নের এক রুদ্ধশ্বাস কণ্ঠস্বর। ক্লান্ত আর মরিয়া হয়ে ভাঙা গলায় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, ‘লেবানন বা ইরানে আমরা কীভাবে যুদ্ধ শেষ করলাম, তাতে আদতে কিছুই যায় আসে না—যদি ইসরায়েল রাষ্ট্রটি তার নিজেরই একটি শহরকে হারিয়ে ফেলে। আমাকে বারবার শোনানো হচ্ছে যে, আমরা যদি বাসিন্দাদের সরিয়ে নিই, তবে সেটা হবে হিজবুল্লাহর বিজয়। কিন্তু সত্য হলো, পরিস্থিতি যা-ই হোক, হিজবুল্লাহ নিজেদের বিজয়ী হিসেবেই দাবি করবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাদের আসল বিজয় হবে তখন, যখন ইসরায়েলে আর কোনো শহর অবশিষ্ট থাকবে না। আপনারা কি জানেন জিরো-সেকেন্ড মিসাইল (যে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার সময়টুকুও দেয় না) কী জিনিস? বাড়িতে শিশু, বৃদ্ধ আর পঙ্গু মানুষদের নিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা কতটা ভয়াবহ, তা কি কল্পনা করতে পারেন? আপনারা যদি এখন পর্যন্ত বেসামরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে যুদ্ধের ময়দানে লড়াইয়ের মাঝখানে তা কীভাবে করবেন? আর যদি তা না-ই পারেন, তবে এই অসহায় মানুষদের অন্তত বিপদমুক্ত এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যান।’
একজন চিহ্নিত ব্যক্তি
নিরাপত্তা ক্যাবিনেটে সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ছিল সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে এ যাবৎকালের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও গুরুতর সতর্কবার্তা। তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) ধসে পড়তে যাচ্ছে।’ তিনি দশটি বিপদসংকেত দেখিয়ে অবিলম্বে সৈন্য নিয়োগ ও রিজার্ভ সিস্টেম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জামির সাধারণত হিসেবি মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি যখন এমন কঠোর ভাষায় কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা শোচনীয়। কিন্তু নেতানিয়াহুর ইতিহাস বলে, যারা তাকে সতর্ক করেছেন— সেটা ইয়োভ গ্যালান্ট হোক বা রোনান বার—তাদের প্রত্যেককেই অপমানিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। জামির এখন নেতানিয়াহুর ‘বিষাক্ত প্রচারযন্ত্রের’ প্রধান লক্ষ্যবস্তু। তাকে হয়তো অচিরেই ‘হিস্টেরিকাল’, ‘দুর্বল’ বা ‘ডানপন্থী সরকারের শত্রু’ তকমা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে।
গণতন্ত্রের বিসর্জন
গত ২০ বছর ধরে কট্টর অর্থোডক্স দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’-এর প্রধান মোশে গাফনি একটি আইনের জন্য লড়েছেন। তার লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় আদালতগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো, যাতে তারা সালিশি ও দেওয়ানি বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রতিবারই তিনি প্রধানমন্ত্রী (প্রধানত নেতানিয়াহু) ও আইনমন্ত্রীদের বাধার মুখে পড়েছেন। কিন্তু এবার এক ‘অলৌকিক’ কাণ্ড ঘটে গেল। তার দল এখন বিরোধী শিবিরে থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্নপূরণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
আসলে গাফনিকে এই সুবিধা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেতানিয়াহুর ছিল না। আগামী সপ্তাহেই নেসেটের (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) বসন্তকালীন ছুটি শুরু হচ্ছে; ক্ষমতাসীন জোটের ওপর কোনো হুমকি নেই, ২০২৬ সালের বাজেটও নির্বিঘ্নে পাস হয়ে যাবে। তবে কেন এই মধ্যযুগীয় এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আইনটি পাসের জন্য এত তাড়াহুড়ো? এমন একটি আইন যা ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যা একা থাকা মায়েদের মতো সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের চরম ক্ষতির মুখে ফেলবে।
পার্লামেন্টে বিতর্কহীন বিলগুলো দ্রুত পাসের রেওয়াজকে বলা হয় ‘টেবিল পরিষ্কার করা’। এই অজুহাতে নিজের বিলটি এত সহজে এগিয়ে যেতে দেখে স্বয়ং গাফনিও অবাক হয়ে গেছেন। একসময় এই ‘টেবিল পরিষ্কার’ করার অর্থ ছিল ছুটির আগে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও সর্বসম্মত বিলগুলো পাস করা। কিন্তু আজ নেতানিয়াহু এই রীতিকে ব্যবহার করছেন তার ‘স্বাভাবিক মিত্রদের’ পাওনা মেটানোর কাজে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার— পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি। বিশেষ করে হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স সম্প্রদায়কে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর, নেতানিয়াহু চান না তারা কোনোভাবেই তার ওপর চটে থাকুক।
যদি নির্বাচনের ফল অমীমাংসিত হয় এবং বিরোধী জোট সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তবে নেতানিয়াহু আশা করেন— হারিদিরা শেষ পর্যন্ত তার পাশেই থাকবে।
বাঁধ ভেঙেছে উগ্রবাদীদের
আগামী সপ্তাহে এই ‘টেবিল সাফ’ করার অংশ হিসেবেই ইতামার বেন-গাভিরের সেই কুখ্যাত বিলে চূড়ান্ত ভোট দেবে নেসেট, যেখানে সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইন নিয়েও দুই দশক ধরে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রধানমন্ত্রীই এটি পাসের দুঃসাহস দেখাননি। তবে এখন কেন হচ্ছে?
কারণ, এখন সব বাঁধ ভেঙে গেছে। বর্তমান সরকারে থাকা নেতানিয়াহু এখন আর নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক ও নৈতিক রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন না। অ্যাডলফ আইখম্যানের মতো বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া যে দেশ মৃত্যুদণ্ড দেয় না, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী এখন প্রতিটি অন্ধ-উগ্রবাদী ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে সায় দিচ্ছেন। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের যে অভিন্ন মূল্যবোধ ছিল, তা থেকে তিনি দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন। তিনি যদি আবার সরকার গঠন করেন, তবে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হবে তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।
বাজেট পাসের পর আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই বিলটি পাস হওয়ার কথা। এটি একটি নজিরবিহীন প্রতারণা। আইনি, নৈতিক, সাংবিধানিক— এমনকি ব্যবহারিক দিক থেকেও এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ। এই বিলে এমন সব কঠোর ধারা আছে যেখানে প্রাণভিক্ষার সুযোগ নেই এবং রায় হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই আইন কেবল পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের জন্য, তাদের ইহুদি প্রতিপক্ষদের (সেটলার) জন্য নয়; যদিও বর্তমানে সেটলার বা ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ চরম আকার ধারণ করেছে।
ক্ষমতাসীন জোটের মন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থীরাও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় স্বীকার করেন যে, এটি একটি অত্যন্ত বাজে আইন যা সুপ্রিম কোর্টে টিকবে না। তবুও তারা এর পক্ষে ভোট দেবেন, কারণ নেতানিয়াহু তেমনটাই চাইছেন। এমনকি তিনি নিজেও এই ভোটে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেশাদার কূটনীতিকরা সেই মুহূর্তটির কথা ভেবে শঙ্কিত, যখন বেন-গভীর ল্যাপেলে ‘ফাঁসির দড়ির পিন’ এঁটে বিজয় উল্লাস করতে পোডিয়ামে দাঁড়াবেন।
হাইকোর্ট যদি এই আইন বাতিলও করে দেয়, তবুও বেন-গাভির আনন্দ করবেন। কিন্তু ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা আর জোড়া লাগানো সম্ভব হবে না। বিশ্বজুড়ে থাকা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের এই বিশৃঙ্খলার দায় সামলাতে হবে। অথচ এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের কোনো বক্তব্য খুঁজে পেলাম না। চারদিকে শুধু নীরবতা। গিডিওন সার এ সপ্তাহে ব্যস্ত ছিলেন বিদায়ী জার্মান রাষ্ট্রদূত স্টিফেন সাইবার্টকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় অপমান করতে। সাইবার্টের ‘অপরাধ’ ছিল, তিনি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি সন্ত্রাসীদের বর্বরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সাহস দেখিয়েছিলেন।