বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
বাজার পর্যবেক্ষকদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২১ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইউএস তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ২৮ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উভয় ধরনের তেলের দামই প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর একতরফা ঘোষণা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনও কমেনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেলের দাম বা আলোচনার স্বার্থে যুদ্ধবিরতি দিলেও ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের নৌ-অবরোধ জারি থাকবে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এই মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো অনুরোধ করেনি এবং নৌ-অবরোধ ভাঙার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হওয়ার অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে প্রায় অচল। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে পেরেছে।
নিসান সিকিউরিটিজের কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং শান্তি আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের বাজার এখন কোনো নির্দিষ্ট দিক খুঁজে পাচ্ছে না।
তেলের বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে লেবানন ও ইউক্রেন পরিস্থিতিও। ইসরায়েলের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে রকেট হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইউরোপে রুশ তেল সরবরাহের পাইপলাইন ‘দ্রুজবা’ চালুর বিষয়ে ইউক্রেন ইতিবাচক সংকেত দিলেও ১ মে থেকে রাশিয়া কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল পাঠানো বন্ধ করতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে অপরিশোধিত তেলের মজুত গত সপ্তাহে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। টানা তিন সপ্তাহ বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মজুত আবারও কমলো। তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে হোয়াইট হাউস ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।