অভিষেককে হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার দায় বিজেপির: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় হামলার শিকারও হন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সেখানকার বেসরকারি দুটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নেয়নি। এর পেছনে ক্ষমতাসীন বিজেপির হাত রয়েছে এবং তারাই দায়ী বলে দাবি করে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (৩০ মে) কালীঘাটের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বিজেপি সরকারের আচরণে স্তম্ভিত এবং দুঃখিত। একমাসও হয়নি ওরা ক্ষমতায় এসেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাতে ভর্তি করা না হয় সেজন্য ওরা সব হাসপাতাল এবং নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে।’
সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, থ্রেট করছে। আপনারা জানেন, ওর লিখে দিয়েছে আইটিইউ-তে ছিল। ওর সারা শরীরে রক্তের দাগ আছে। বুকে আছে। আমি নিজে দেখেছি। হাতে-পায়ে আছে। গা বমি-বমি করছে। মাথা ঘুরছে। প্রেসার ওঠা-নামা করছে। এই অবস্থায় ডাক্তাররা কিন্তু ছাড়তে চায়নি। কিন্তু তারা বাধ্য হয়েছে। কারণ, এমন না হলে তাদের চাকরি খেয়ে নেবে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আমার সামনে ফোন করে থ্রেট করছিল। এত অমানবিক। এ কোন দেশে আমরা আছি?
তিনি বলেন, ‘এখানে (বেলভিউ হাসপাতাল) আনলাম আইটিইউ-তে নিয়ে গেল। টেস্ট দিল। আমি বসেছিলাম হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তা মিস্টার টন্ডনের সঙ্গে। ফোন এলো। ওপারে ডিসি সাউথ ছিলেন। তারপর ভর্তি করল না। আপাতত বাড়িতেই চিকিৎসা হবে ওর। প্রয়োজনে ওকে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে।’ অর্থাৎ কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের।
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বেলভিউ হাসপাতাল। মিন্টো পার্কের বেসরকারি হাসপাতাল জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে গুরুতর কোনও আঘাত নেই। বুকে ছড়ে যাওয়ার দাগ থাকলেও তা বিশেষ কিছু নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওযুধ দেওয়া হয়েছে। ফলে তাকে ভর্তি করার কোনও প্রয়োজন নেই।
এর আগে, শনিবার নির্বাচন পরবর্তী সংহিসতার শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুর যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন তৃণমূলের এই তরুণ নেতা। তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি রীতিমতো মারধর ও ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আনে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সেখান থেকে সোজা কলকাতা ফিরে প্রথমে অ্যাপোলো ও পরে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করা হয়। যদিও কোনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তাকে ভর্তি নিতে চাইছিল না। কারণ হিসাবে তারা জানিয়েছে, অভিষেকের শরীরে কোনও গুরুতর চোট বা আঘাতের চিহ্ন নেই। আর তারপর কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি।
এরপর কালীঘাটে সংবাদমাধ্যমে সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি না করতে চাওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে ভর্তি না নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারদের তরফে জানানো হয়, ভর্তির প্রয়োজন নেই। এরপর মিন্টো পার্কের ধারে আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও একই কথা বলা হয়। এই পুরো সময়ে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
