logo
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে হাজারো ভারতীয়

এনডিটিভি
এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে হাজারো ভারতীয়
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: এনডিটিভি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের স্বামী বা স্ত্রীদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো এইচ-৪ ভিসাধারী চাকরি হারাতে পারেন। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ভারতীয় পরিবারগুলোর ওপর।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবটি নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের তালিকায় যুক্ত করেছে। এর লক্ষ্য এইচ-১বি ভিসাধারীদের নির্দিষ্ট শ্রেণির নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার যোগ্যতা থেকে বাদ দেওয়া।

বর্তমানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এইচ-৪ ভিসাধারীরা আলাদা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন। ২০১৫ সালে চালু হওয়া নিয়মটি বাতিল হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এইচ-৪ কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রের আবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের ৯৩ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।

ডিএইচএসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের চূড়ান্ত বিধিমালায় করা পরিবর্তনগুলো ফিরিয়ে নিয়ে এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার যোগ্যতা বাতিল করা হবে।

তবে এটি এখনো শুধু একটি প্রস্তাব; তাৎক্ষণিকভাবে এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বাতিল হচ্ছে না। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে এবং সবশেষে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে হবে। ততদিন বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র থাকা এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

এর আগেও এই নিয়ম বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে নির্দিষ্ট এইচ-৪ ভিসাধারীদের কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি এবং ২০২১ সালে প্রত্যাহার করা হয়।

এবারের উদ্যোগটি এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের অংশ। নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও দিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে এইচ-১বি কর্মীদের যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, সেটিও বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এইচ-৪ নিজে কোনো কর্মসংস্থান ভিসা নয়। এই ভিসা মূলত এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ দেয়। কাজ করতে হলে আলাদা কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র নিতে হয়। সাধারণত এইচ-১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে এই অনুমতিপত্র পাওয়া যায়।

কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র ছাড়া এইচ-৪ ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করতে পারলেও চাকরি করতে পারেন না। তবে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতীয় এইচ-১বি পরিবারগুলো বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য।