logo

মধ্যপ্রাচ্যের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্রে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি এই হুমকি দেন। খবর আল জাজিরার

শত্রুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি ‌‌আমাদের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা এই অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) সবকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত হানব।

জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি বলেছেন, আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে এবং এটি শিগগিরই ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। 

স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। 

জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০- এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

চলমান এই সংঘাত বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি চলছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।