logo

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের জন্য ভিন্ন আয়োজন

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের জন্য ভিন্ন আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণের মধ্যেও বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রকৃতি দিবসের (সিজদাহ বেদার) অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে ইরানিরা। তেহরানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পারদিসান পার্কে হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে দিননটি উদযাপন করেন। তবে একদল অসুস্থ শিশুর জন্য দিনটি ছিল ভিন্ন। যেসব শিশু অসুস্থতার কারণে বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সের ‘চিলড্রেন মেডিকেল সেন্টার’ এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হাসপাতালটির আবাসিক ডাক্তার ও ইন্টার্নরা নিজেদের অর্থ ও কিছু অনুদান সংগ্রহ করে অসুস্থ শিশুদের জন্য ওই বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।

আয়োজকদের একজন, ডা. সামানেহ কাভাউসি বলেন, ‘এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে অসুস্থ শিশু এবং তাদের পরিবারগুলো প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সাধ্যমতো শিশুদের সেই উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে তাদের মনে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

গত ২০ মার্চ ছিল ফার্সি নববর্ষ। সেই অনুষ্ঠানে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের ছবি এঁকেছিল। এবার সিজদাহ বেদার অনুষ্ঠানে সেইসব ছবি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিল নাচের আয়োজন। অনেক শিশুই তাদের মা-বাবা ও ভাইবোনদের সঙ্গে এই নাচে অংশ নেয়।

শিশুদের আনন্দ দিতে হাসপাতালেরে কর্মীরা জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ‘টয় স্টোরি’ ও ‘পাউ প্যাট্রোল’ এর বিভিন্ন চরিত্রেরন পোশাক পরে হাজির হন।

অনুষ্ঠানে দেখা যায়, অনেক শিশুই গালে-মুখে রং মেখে হাজির হয়েছে, আবার কেউ রঙিন কাগজে হাতের ছাপ দিচ্ছে, কেউ খেলছে বল দিয়ে। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিটি শিশুকে উপহার দেওয়া হয় খেলনা ও খাবারে ভরা প্যাকেট।

আলজাজিরা জানায়, এই শিশু হাসপাতালটির ঠিক পাশেই অবস্থিত ইমাম খোমেনি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত হামলা হয়নিন। তবে আশপাশে প্রতিনিয়ত বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকাটি।

ডা. জয়নাব আলিহাগি জানান, যুদ্ধের আগে হাসপাতালটিতে গড়ে প্রায় ৪০০ শিশু চিকিৎসাধীন থাকত। যুদ্ধ শুরুর পর এই সংখ্যা ১০০ জনের নিচে নেমে এসেছে। অনেক অভিভাবকই নিরাপত্তার কথা ভেবে সন্তানদের অন্য শহরের হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ওষুধের কোনো সংকট নেই। ডা. কাভাউসি বলেন, ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেরাও প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে আছেন। তবুও আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব এবং শিশুদের কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাব।’