ইরানে চূড়ান্ত হামলার ‘ছক কষছেন’ ট্রাম্প

চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে পাকিস্তানে। তবে এই শান্তি আলোচনার মধ্যেও ইরানে চূড়ান্ত হামলার ‘ছক কষছেন’ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটি দাবি করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্য দুইজনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চূড়ান্ত হামলার অংশ হিসেবে ইরানে ব্যাপক পরিমাণে বিমান হামলার পাশপাশি স্থলবাহিনী নামানোর চিন্তাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, শান্তি আলোচনার মধ্যে ট্রাম্পের সামরিক বিকল্প অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছেন—এমন কর্মকর্তাদের বরাতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো সম্ভাব্য এই বাহিনীতে পদাতিক সেনা ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ওয়াশিংটন এরই মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা ও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। খবর অনুযায়ী আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা তাদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মূলত বড় হামলার পথে হাঁটবে মার্কিন বাহিনী।
খারগ, লারাক কিংবা আবু মুসারে মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানি দ্বীপে আক্রমণ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপের মতো পরিকল্পনাও আছে।
কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের হামলা চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্ত থাকা এক ব্যক্তি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অ্যাক্সিওস বলছে, সম্ভাব্য অনেক বিকল্প পদক্ষেপ ভেবে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনও ‘কাল্পনিক’ হিসেবেই দেখেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দেড় হাজারের অধিক মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অর্ধশতাধিক শীর্ষ নেতাও আছেন।
এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা। অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।