logo
Advertisement

৬৫৩ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদকে ‘মন্দির’ দাবি বিজেপির, স্থাপন হচ্ছে শিবলিঙ্গ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,কলকাতা
৬৫৩ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদকে ‘মন্দির’ দাবি বিজেপির, স্থাপন হচ্ছে শিবলিঙ্গ
৬৫৩ বছরের ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ৬৫৩ বছরের ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ‘আদিনাথ মন্দির’ দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে ‘আদিনাথ মন্দির’ বলে দাবি করলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

Advertisement

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ জুলাই) ঐতিহাসিক এই স্থাপনার প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপন ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। তাদের দাবি, ওই দিন সেখানে শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একাংশের দাবি, মসজিদটি একটি প্রাচীন শিবমন্দিরের ওপর নির্মিত। স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে হিন্দু দেব-দেবীর নিদর্শন রয়েছে বলেও তাদের দাবি।

এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদিনা মসজিদের নিকটে শিবলিঙ্গ স্থাপন ও ধর্মীয় আচার পালনের উদ্যোগ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী বলেন, তাদের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। আদালতের নির্দেশ ও আইন মেনেই ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ীভাবে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে।

তিনি দাবি করেন, এটি কখনও মসজিদ ছিল না, বরং একটি প্রাচীন শিবমন্দিরকে ভেঙে পরে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছিল। তবে এই দাবির পক্ষে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি।

কাজল গোস্বামী আরও বলেন, আপাতত প্রতিবছরের মতো মেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং শিবলিঙ্গটি আদিনা সৌধের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্থানে এটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে আদিনা মসজিদ ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) সংরক্ষিত স্থাপনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিবমূর্তি ও অন্যান্য হিন্দুধর্মীয় নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীন বা সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।