উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই কি ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

উপকূলীয় অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা বাড়াচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই সামরিক কৌশল নিয়ে তথ্য দিয়েছেন পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড ডেস রচেস।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অভিযান ইরানের আরও ভেতরে প্রবেশ করেছে। মূলত ইরান যেন ক্ষেপণাস্ত্র, সৈন্য বা ড্রোন দিয়ে উপকূলীয় এলাকাকে শক্তিশালী করতে না পারে, সেজন্যই এই উপকূলকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর পেন্টাগনের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের প্রথম ধাপ থেকে মার্কিন হামলার কৌশল পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথম ধাপে হামলাগুলো করা হয়েছিল নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন্য। একই সঙ্গে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক উৎক্ষেপণ করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করার জন্য ওই হামলাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ওই হামলাগুলোর কারণে ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক উৎক্ষেপণ করতে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়নি। তবে তারা একই সঙ্গে একক অথবা হয়তো দুটি বা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা সাধারণত প্রতিহত করা হয়।
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারগুলোর ওপর ইরানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু করে। ডেস রচেস বলেন, নতুন এই হামলাগুলো সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। যেমন চাবাহারের টাওয়ারগুলো, যেগুলো ইরান লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে বেসামরিক নৌযান চলাচল ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন অভিযানের পরবর্তী ধাপে ইরানের অভ্যন্তরে থাকা জাতীয় নেতৃত্ব, জাতীয় সামরিক স্থাপনা এবং দ্বৈত-ব্যবহারের অবকাঠামোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার আশা করছেন তিনি। অবশ্য তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে কেবল বিমান শক্তির স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি কখনোই দাবিকৃত রূপ অনুযায়ী কাজ করে না, অথবা খুব কমই করে থাকে।
