logo

মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ক্রমশ সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার তারা পাঠাচ্ছে আরেকটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের নজির তৈরি করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্টিট জার্নাল।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রণতরিটি ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করেছে। শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে দুটি ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই গ্রুপে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহম লিংকন ও ক্রোয়েশিয়ার একটি বন্দরে মেরামতাধীন ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।

জর্জ এইচডব্লিউ বুশ রণতরির সঙ্গে আরও তিনটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস রস, ইউএসএস ডোনাল্ড কুক ও ইউএসএস মেসন। এগুলো আর্লেই বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, যা মূলত রণতরিকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে। মার্কিন নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইউএসএস মেসন হলো জিএইচডব্লিউবিসিএসজি-এর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কমান্ডার।

ক্যারিয়ার এয়ার উইং ৭ এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে আকাশ থেকে পূর্ণ সহায়তা দেবে। এটি নয়টি স্কোয়াড্রন নিয়ে গঠিত একটি সমন্বিত বিমান শক্তি, যেখানে একসঙ্গে আক্রমণ, নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়। এই এয়ার উইং একসঙ্গে কাজ করে পুরো ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আকাশভিত্তিক অপারেশনকে সচল ও কার্যকর রাখে।

এই এয়ার উইংয়ের মূল শক্তি চারটি স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন (VFA) ৮৩ র‍্যাম্পেজার্স, জলি রজার্স, গানস্লিংগার্স এবং ওয়াইল্ডক্যাটস। এগুলো সবই বোয়িং এফ/এ-১৮ই/এফ সুপার হর্নেট পরিচালনা করে এবং আকাশযুদ্ধ ও হামলার দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন প্যাট্রিয়টস স্কোয়াড্রন বোয়িং ইএ-১৮জি গ্রোলার ব্যবহার করে শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার কাজ করে।

এয়ার উইংয়ে এয়ারবোর্ন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্কোয়াড্রন সান কিংস স্কোয়াড্রন যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ থেকে নজরদারি ও কমান্ড পরিচালনা করে। অন্যদিকে, হেলিকপ্টার সি কমব্যাট স্কোয়াড্রন নাইটডিপার্স ও হেলিকপ্টার মেরিটাইম স্ট্রাইক স্কোয়াড্রন গ্র্যান্ডমাস্টার্স স্কোয়াড্রন এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান, সাবমেরিন শনাক্তকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া  ফ্লিট লজিস্টিকস মাল্টি-মিশন স্কোয়াড্রন মাইটি বাইসন স্কোয়াড্রন সি-২এ গ্রেহাউন্ড বিমানের মাধ্যমে জাহাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ করে।

জর্জ এইচডব্লিউ বুশ রণতরিতে সবমিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা সদস্য রয়েছে।

ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ টেনের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যালেক্সিস টি. ওয়াকার বলেছেন, আমি এই স্ট্রাইক গ্রুপের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে গর্বিত। আমাদের নাবিকেরা ভালোভাবে প্রস্তুত, দক্ষ এবং দেশের যেকোনো নির্দেশ পালন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

জর্জ এইচডব্লিউ বুশ যুদ্ধজাহাজের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন বিবো বলেন, আমাদের নাবিকদল ‘কাজের স্বাধীনতা’ মূলমন্ত্রকে মূর্ত করে তোলে। তারা খুব ভালোভাবে প্রশিক্ষিত, কাজের প্রতি দারুণ মনোযোগী, যেকোনো দায়িত্ব পেলে তা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সদা প্রস্তুত। মোতায়েন থাকাকালে যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্যও তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইরানকে ঘিরে এমন সামরিক উপস্থিতি স্বাভাবিক বিষয় নয়। তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক একসঙ্গে থাকার অর্থ শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং বড় আকারে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতাও প্রস্তুত রাখা। এরই মধ্যে মার্কিন অভিজাত মেরিন কোরের অভিযানকারী ইউনিট বহনকারী উভচর জাহাজগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ঢুকে পড়েছে।

এর আগে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের এক হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মধ্যপ্রাচ্য সফররত যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তিনি জানান, বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের প্রায় এক হাজার সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে সাইপ্রাসে নিয়োজিত ব্রিটিশ সেনারাও অন্তর্ভুক্ত আছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরকালে হিলি মিত্র দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদানের ঘোষণাও দেন। তিনি বলেন, ইরান ওই অঞ্চলে তাদের হামলার পরিধি ‘বিস্তৃত’ করছে এবং চলমান এই যুদ্ধ আরও ‘কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউস ইরানের পক্ষ থেকে কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কথা উল্লেখ করে এই হামলার ন্যায্যতা প্রমাণ করে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে প্রতিশোধমূলক অভিযানের ঘোষণা দেয়। বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ইরানের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হন।