logo

ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ ট্রাম্পের, বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি

ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ ট্রাম্পের, বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি

যুদ্ধ গড়িয়েছে ১৮ দিনে, কতদিন চলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ব অর্থনীতিও দিনদিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে তেলের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। ইরানে হামলা করে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মিত্ররাও কেউ তার পাশে দাঁড়াতে নারাজ। এমন অবস্থায় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মিত্রদের ওপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এমনকি এ সিদ্ধান্তের জন্য তার কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ন্যাটোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এপি’র।

ন্যাটো আগেই জানিয়েছিল ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে সমর্থন দিয়ে আসছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর উচিত ঋণের প্রতিদান দেওয়া।

ট্রাম্প ন্যাটোর প্রত্যাখ্যানকে ‘হতাশাজনক’ এবং ‘অংশীদারত্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার মাথায় সুনির্দিষ্ট কিছু নেই, তবে ন্যাটোর ভূমিকায় আমি মোটেও রোমাঞ্চিত নই। ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভাবা উচিত।

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হঠাৎ যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।