২ মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনক্ষমতার অধিকাংশ পুনরুদ্ধারের আশা ইরানের

সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তেল শোধনাগারগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে দেশগুলো সম্মত হওয়ায় আপাতত হামলা বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো মেরামত করে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চায় ইরান। রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এমন তথ্য।
ইরানের উপ তেলমন্ত্রী মোহাম্মদ সাদেক আজিমিফার জানিয়েছেন, দেশটির জ্বালানি শোধনাগার ও বিতরণ কার্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো ব্যবস্থার অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসএনএন নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজিমিফার বলেন, ‘ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত তেল শোধনাগার, সঞ্চালন লাইন, তেলের ডিপো এবং সরবরাহ স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘এই সংস্কার কাজের আওতায় রয়েছে লাভান দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ একটি শোধনাগারও। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই শোধনাগারটির একটি অংশে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
এদিকে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাস্ট দ্য নিউজের একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে পারে। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন খুব সহজেই এই প্রণালির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
এর আগে গত শনিবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীন, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ওপর ‘করুণা’ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। কারণ ওই দেশগুলোর এই কাজ করার মতো সাহস নেই।
এদিকে ইসলামাবাদে লম্বা বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাবটি টেবিলে তুলেছি এবং যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন দেখার বিষয় ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদল এই বৈঠককে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশে’ হওয়া আলোচনা বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার যে দাবি করছে তা ভিত্তিহীন।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিই এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কয়েকটি রণতরি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।