ইউরোপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ

কঠোর অভিবানসনীতির কারণে ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশীদের আবেদনের সংখ্যা কমলেও আবেদন বেড়েছে বাংলাদেশিদের। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ও ইইউ+ দেশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় এ সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে বাংলাদেশিদের আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ২০ হাজার; অর্থাৎ ১৩ শতাংশ বেশি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) প্রকাশিত ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস: মিড-ইয়ার রিভিউ ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের স্বীকৃতির হার খুবই কম। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম দফার সিদ্ধান্তে মাত্র প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশকে শরণার্থী মর্যাদা বা সহায়ক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রায় ৯৬ শতাংশই প্রথমবারের মতো আবেদন করেছেন। ইতালি ছিল বাংলাদেশিদের আবেদনের প্রধান গন্তব্য, এরপর ছিল গ্রিস ও ফ্রান্স।
ইইউএএ জানায়, আফগান নারীদের আবেদনের সুযোগ কমে যাওয়ায় আফগানদের সামগ্রিক আবেদন এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়ে ৩৯ হাজারটিতে দাঁড়িয়েছে (যার ৯৩ শতাংশ জমা পড়েছে স্পেনে)। তবে আবেদনের দিক থেকে শীর্ষ স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে স্থান পাওয়া বাংলাদেশিদের আবেদন ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজারে পৌঁছেছে।
দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে ফ্রান্সে, যা মোট আবেদনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তালিকায় এর পরেই রয়েছে ইতালি (৬৬ হাজার), স্পেন (৫৫ হাজার) এবং জার্মানি (৫৫ হাজার)। এই চারটি দেশেই যৌথভাবে মোট আবেদনের তিন-চতুর্থাংশ জমা হয়েছে। অন্যদিকে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে মাথাপিছু সর্বাধিক ২৩ হাজার আবেদন পেয়েছে গ্রিস।
আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইইউ+ দেশগুলোতে সামগ্রিক স্বীকৃতির হার ছিল ৩১ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধেকেরও কম আবেদনকারী আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন। চলতি বছরের ১২ জুন থেকে ইইউ-এর নতুন ‘আশ্রয় কার্যপ্রণালি প্রবিধান’ কার্যকরের পর বাধ্যতামূলক সীমান্ত ও ত্বরান্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ২০ শতাংশের কম স্বীকৃতির হারযুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য এই কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৫৬ শতাংশ আবেদন জমা পড়েছে এই মানদণ্ডের আওতাভুক্ত নাগরিকদের কাছ থেকে; যার মধ্যে বাংলাদেশ (২০ হাজার), মিশর (১২ হাজার), ভেনেজুয়েলা (৩৩ হাজার) এবং তুরস্ক (১২ হাজার) অন্যতম। তুর্কি নাগরিকদের (১৮ শতাংশ) বাদ দিলে বাংলাদেশিসহ বাকিদের প্রাথমিক দফায় স্বীকৃতির হার ছিল ৫ শতাংশের নিচে।
এদিকে ২০২৬ সালের জুন শেষে ইইউ+ দেশগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৭০ হাজারে। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক পর্যায় মিলিয়ে মোট বিচারাধীন আবেদন ছিল প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার। বিচারাধীন মামলার তালিকায় শীর্ষে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসীদের মামলা এক লাফেই ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ২৯ হাজারে পৌঁছেছে।
পরবর্তীতে অবস্থান করছে সিরিয়া (৭৬ হাজার), কলম্বিয়া (৬৪ হাজার), পেরু (৩৮ হাজার) এবং বাংলাদেশ (৩৬ হাজার)। ইইউএএ জানায়, সামগ্রিকভাবে নতুন মামলা কমলেও পুরোনো মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা রয়ে গেছে এবং মোট ঝুলে থাকা মামলার ৭৩ শতাংশই ছয় মাসের বেশি পুরোনো।


