বাবাকে গুলি করে হত্যা, ছেলের জবাব—‘ভুল করে হয়ে গেছে’

ভারতের লখনউ শহর এখনো স্তব্ধ। যে বাড়িতে ভোরের চায়ের কাপে দিন শুরু হওয়ার কথা, সেখানেই ভোর সাড়ে চারটায় গুলির শব্দ—আর তার পরের কাহিনি যেন এক দুঃস্বপ্ন। ভারতের চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) নিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কের জেরে ৫০ বছর বয়সী মনবেন্দ্র সিংকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ২১ বছরের ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিংয়ের বিরুদ্ধে। শুধু হত্যাই নয়, প্রমাণ নষ্ট করতে দেহ টুকরো করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলার সময় গণমাধ্যমের প্রশ্নে অক্ষতের সংক্ষিপ্ত জবাব— ‘গলতি সে হো গয়া’ (ভুল করে হয়েছে)। কীভাবে এমন ঘটনা ‘ভুল’ হতে পারে—প্রশ্ন শুনেও আর কিছু বলেননি তিনি। ছোট বোনের জড়িত থাকার প্রশ্নে মাথা নেড়ে অস্বীকার করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ভোরে আশিয়ানা এলাকার সেক্টর-এল-এর বাসায় বাবার লাইসেন্সধারী .৩১৫ বোর রাইফেল ব্যবহার করে গুলি চালান অক্ষত। কয়েক দিন পর নিজেই থানায় বাবার নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি—তদন্তকারীদের ধারণা, সন্দেহ ভিন্নদিকে ঘোরাতে এ পদক্ষেপ। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর ভেঙে পড়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।
অভিযোগ, হত্যার পর বাড়ির ভেতরেই ছুরি ও করাত দিয়ে দেহের হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। সেগুলো পলিথিনে মুড়ে নাদারগঞ্জ এলাকার একটি খালের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের ধড়টি বাড়ির নিচতলায় একটি নীল প্লাস্টিক ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্তের দেখানো মতে পুলিশ দেহাংশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হয়েছে ব্যবহৃত রাইফেল, ছুরি, করাত এবং অন্যান্য আলামতও।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে, তদন্ত চলছে।