logo

ইরানকে ধরাশায়ী করতে নতুন ছকে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ধরাশায়ী করতে নতুন ছকে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ধরাশায়ী করতে দেশটিতে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ব্যাপারে ভাবছেন। তেহরানে পরবর্তী পর্বের আক্রমণ হয়তো এই বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমেই শুরু হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

রোববার (৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত জব্দ করার জন্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরকার আলোচনা করেছে। তবে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি নাকি যৌথ বাহিনী জড়িত থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উভয় দেশ যখন নির্ধারণ করবে যে, ইরানের সামরিক বাহিনী আর গুরুতর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে না, তখন আক্রমণের ‘পরবর্তী পর্যায়ে’ এই অভিযান চালানো হবে।

অ্যাক্সিওস আরও জানায়, ইরানের ৪০০ কেজিরও বেশি (৮৮২ পাউন্ড), অর্থাৎ ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) গত ১০ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার পরিদর্শন করেছে। তবে তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও স্থাপনার অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আইএইএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করছে, যা অস্ত্র-গ্রেড বিশুদ্ধতার খুব কাছাকাছি।

একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও তার দল ইরানে বিশেষ অপারেশন ইউনিট পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন দুইটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। একটি ইরান থেকে পারমাণবিক উপকরণ পুরোপুরি সরিয়ে আনা, অথবা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়ে প্রকল্প সাইটে এটিকে পাতলা করা। এই মিশনে সম্ভবত আইএইএ থেকে বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি বিশেষ অপারেটররাও অংশ নেবেন।

গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার ফলে ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানিরা তখন থেকে সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে পরবর্তীতে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।