থুনবার্গসহ শীর্ষ ১০ ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ইনফ্লুয়েন্সারের তালিকা প্রকাশ ইসরায়েলের

বিশ্বব্যাপী ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বা ‘অ্যান্টিসেমিটিজম’ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক ও ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন বিপজ্জনক ইহুদিবিদ্বেষী ইনফ্লুয়েন্সারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ইহুদিবিদ্বেষী ও জায়নবাদবিরোধী অঙ্গনের ১০ জন বিশিষ্ট প্রভাবশালীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও প্রভাবের পরিধির ভিত্তিকে এই তালিকা তৈরি করেছে ইসরায়েল।
এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের পরিচিত মুখ সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তাকে গণ্য করছে ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে থুনবার্গ ইসরায়েল ও ইহুদিবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, জনসমক্ষে বক্তৃতা ও যুদ্ধ-সম্পর্কিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মাধ্যম ফিলিস্তিনপন্থি বার্তা প্রচার করছেন। একইসঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা, অবরোধ ও ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মতো শব্দ ব্যবহার করেছেন। তার এই কনটেন্ট বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছায় এবং প্রায়শই ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়।
মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের বিরদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগ, তিনি অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারের জন্য সমালোচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লসন তার বার্তাগুলোকে প্রতিষ্ঠানবিরোধী বা বিশ্বায়নবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তিনি বারবার গণমাধ্যম, অর্থায়ন ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইহুদি নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তার এই মনোভাব মূলধারার আলোচনায় ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণা প্রসারে ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী ও শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নিক ফুয়েন্তেসের নামও এই তালিকায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুয়েন্তেস সুস্পষ্ট ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছেন। হলোকাস্টকে অস্বীকার বা ছোট করে দেখিয়েছেন এবং ইহুদিদের পশ্চিমা সভ্যতার শত্রু হিসেবে বর্ণনা করার পাশাপাশি স্বৈরাচারী মতাদর্শের প্রশংসা করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত আরেকজন হলেন মার্কিন ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েন্স। তিনি অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী কনটেন্ট ছড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে এমন কিছু বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি তার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তথাকথিত জায়নবাদী মিডিয়া সাম্রাজ্যকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়াও তিনি ইহুদি জাতিগোষ্ঠী নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছেন।
প্রতিবেদনে আনাসতাসিয়া মারিয়া লুপিসেরও নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে ডেনমার্কভিত্তিক একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বিশেষত ৭ অক্টোবর থেকে ইহুদি ও ইসরায়েলকে নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছেন এবং তাদেরকে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্বেষী শক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
এ ছাড়াও তালিকাভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান, মিশরীয়-আমেরিকান কৌতুক অভিনেতা বাসেম ইউসুফ, ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান, মুসলিম ধর্মগুরু ওমর সুলেইমান ও মার্কিন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইয়ান ক্যারল।
ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেছেন, এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষী ‘গভীর প্রবণতা’ মনোভাব প্রতিফলিত করে। সময়মতো এই প্রবণতাগুলো শনাক্ত করা, সে সম্পর্কে সতর্ক করা এবং অংশীদারদের সঙ্গে মিলে তা বুঝে পদক্ষেপ নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।
মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আভি কোহেন-স্কালি বলেছেন, ইসরায়েলি সরকার ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পন্থা থেকে সরে এসে সক্রিয় ও গোয়েন্দাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে বিপজ্জনক ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা মোকাবিলায় বলপ্রয়োগ, আইন প্রণয়ন ও শিক্ষাসহ আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সূত্র: ওয়াইনেট