logo

শান্তি আলোচনায় ধোঁয়াশা, ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম 

শান্তি আলোচনায় ধোঁয়াশা, ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম 

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে ধোঁয়াশার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। 

রোববার ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজ জব্দের ঘটনায় এ উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ব্রিটিশ নৌ-সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, প্রণালি পার হওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে ইরানি বাহিনী গুলি চালিয়েছে এবং অন্য একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। 

এর পরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, অবরোধ অমান্য করায় একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন নেভি।

গত শুক্রবার প্রণালীটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় জলপথটি আবারও বন্ধ করে দেয়।

রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল সোমবার পাকিস্তানে যাবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা পরে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি ও অবাস্তব প্রত্যাশার কারণে তেহরান এই আলোচনায় অংশ নেবে না।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। যদি দুপক্ষ মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একমত না হয়, তবে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে গিয়েছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশই পার হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান কর্তৃক এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সারা বিশ্বে পেট্রোল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে তেল ব্যবহার শুরু করেছে। ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ১৯টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। এ সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি। তবে ঐতিহাসিক গড় হিসাবে এ সংখ্যা অনেক কম।

তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সোমবার এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীরা সম্ভবত বড় কোনো সংঘাত এড়ানোর শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছেন। তবে বুধবারের মধ্যে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।