লেবাননে হামলা জোরদারের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

লেবাননে নতুন করে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই হামলা শুরু হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা ২২টি ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক, সামরিক ব্যারাক ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হলেও সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, আমরা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে আছি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহর উপর মারাত্মক হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে এখন হামলার মাত্রা ও তীব্রতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ও ইতামার বেন গভির সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত হামলার পরিধি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলার বেশিরভাগই দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে এখনো ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ওই অঞ্চল থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হচ্ছে।
সোমবার যে বেকা উপত্যকায় হামলা হয়েছে, সেটি সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন পূর্ব লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
এদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আলোচনায় ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে চার শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবা কর্মী রয়েছেন।
এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের নতুন নতুন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাদের মতে, এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে প্রথমে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

