ইরানের তেল শোধনাগারে গোপন হামলা চালায় আরব আমিরাত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাদের পাশে ছিল আরও একটি রাষ্ট্র। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলা চালানোয় ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অত্যন্ত গোপনে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামা তৃতীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলোর বিষয়ে আরব আমিরাত সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি। দেশটির হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত ইরানের তেল শোধনাগার।
এপ্রিলের শুরুর দিকে এই হামলা চালায় আরব আমিরাত। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। তবে আরব আমিরাত যুদ্ধবিরতির আগে না পরে এই হামলা চালিয়েছিল তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি প্রতিবেদনে।
যুদ্ধবিরতির পরপর ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাদের গরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তৃতীয় কোনো শত্রু হামলা চালিয়েছে। তবে ঠিক কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নির্দিষ্ট করেনি তেহরান। তবে এর জবাবে আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদনে যুদ্ধে আরব আমিরাতের অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ হিসেবে শুধু লাভান দ্বীপের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আবুধাবির এই অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল।
এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। পেন্টাগনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মার্চ মাসে বেশ কয়েকটি হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার জবাবে আরব আমিরাত ইরানের একটি পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনগুলো আমিরাতের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তারা ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দেওয়া খবরকে মিথ্যা বলে অভিহিত করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের দেওয়া কোনো বিষয়ে আলোকপাত করেনি বলে জানিয়েছ।
যুদ্ধে আমিরাতের ওপর অন্যনান্য দেশের তুলনায় বেশি হামলা চালিয়েছে ইরান। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইরান তাদের ওপর প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে আমিরাত এই অঞ্চলের ইসরায়েলসহ সব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
আরব আমিরাত জানিয়েছে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তেহরান এই অঞ্চলে হামলা বাড়িয়ে দেওয়ায় গত এক সপ্তাহে তাদের ভূখণ্ডে আবারও ইরানি হামলা শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যনান্য স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইরান তাদের দৃঢ় অবস্থান উল্লেখ করে। সেই অবস্থান থেকে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় মার্কিন মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও অবরোধ করে রাখা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের হুমকিগুলো দূর করতে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে এই অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলোর বেশিরভাগই অপূর্ণ রয়ে গেছে।