logo
ডেইলি মেইলের দাবি

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট মহলের বরাতে রোববার (১৭) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক ড্যান হজেসকে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে মন্ত্রিসভার এক সদস্য তাকে জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝেন স্টারমার। চলমান বিশৃঙ্খলা আর বেশিদিন চলতে দেওয়া যাবে না, তিনি তা বুঝেন। স্রেফ মর্যাদার সঙ্গে নিজের ইচ্ছেমতো সময়ে পদত্যাগ করতে চান স্টারমার। এ জন্য একটি সময়সূচিও ঘোষণা করবেন তিনি।

মন্ত্রিসভার আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের ঘোষণা ঠিক কবে নাগাদ আসবে তা এখনও স্পষ্ট না। স্টারমারের কিছু প্রবীণ সহযোগী তাকে এখনই কোনো মন্তব্য না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রাথমিক ভোট সমীক্ষা ও প্রচারের গতিপ্রকৃতি সামনে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগ্যান ম্যাকসুইনি স্টারমারকে আরও কিছু দিন ক্ষমতা ধরে রাখার অনুরোধ করছেন বলে দাবি করেছেন এক মন্ত্রী। ম্যাকসুইনির যুক্তি, লড়াই যদি হাড্ডাহাড্ডি হয়, অ্যান্ডির হারার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।

তবে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর এক সমর্থক ডেইলি মেইলকে জানান, স্টারমার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। কারণ, সেটি তার ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করতে পারে। তিনি যদি অপেক্ষা করেন এবং তারপর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জিতে যান, তবে মনে হবে যে বার্নহ্যামের চাপেই তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন।

নিজ দলের ভেতরেই বিদ্রোহে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এখন বাঁধভাঙা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একের পর এক আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ওপর থেকে আস্থা হারানোর কথা বলছেন।

গত শুক্রবার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। এখন পর্যন্ত চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর এমনিতেই নেতৃত্ব সংকটে থাকা লেবার পার্টিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে স্ট্রিটিং জানান, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আর আস্থা নেই। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে দলের নির্বাচনি পরাজয়ের পেছনে সরকারের অজনপ্রিয়তা বড় কারণ ছিল।