logo

২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, পুলিশের জালে ধরা চক্রের ১২ সদস্য

এনডিটিভি
এনডিটিভি
২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, পুলিশের জালে ধরা চক্রের ১২ সদস্য
বিড়াল। ছবি: অ্যাপলাওস

প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়ার চুরি ও মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেল জব্দ করেছে। ঘটনাটি ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির।

সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী লু থান বিনকে এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সম্পত্তি চুরির অভিযোগে বিন ও তার ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। যেসব বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, সেগুলোর বাইরে ছোপ ছোপ মাছ দিয়ে ফাঁদ পেতে রাখা হতো। প্রতিটি দল প্রতি রাতে চার থেকে ১০টি করে বিড়াল চুরি করত।

গত ৮ জুলাই ডং থান কম্যুনে চালানো এক অভিযানে এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। সেখানে ৫০টি বিড়াল, ৫৫টি ফাঁদ ও দুটি স্কেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১২ আসামি স্বীকার করেছেন, তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে বিক্রি করেছেন। তবে এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা পুলিশ এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি।

বিড়াল চুরির পাশাপাশি বিন অন্যান্য স্বাধীন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও বিড়াল কিনতেন। জুলাইয়ে উদ্ধার হওয়া ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও অনেকে মনে করেন, বিড়ালের মাংস খেলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এ ধরনের মাংসের খাবার বিক্রি করা হয়; তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীর উৎসের সঠিক অনুমোদনপত্র থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও গ্রহণ বন্ধের অঙ্গীকার করে।