ইরানের ভয়ে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষার ‘জটিল’ পরীক্ষা চালাল ইসরায়েল

‘ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের অংশ হিসেবে ডেভিড’স স্লিং মাঝারি-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক ‘জটিল’ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। খবর টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল নির্মিত ডেভিড’স স্লিং ৪০-৩০০ কিলোমিটার পাল্লার রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন প্রতিহত করার জন্য তৈরি। বহু-স্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যম স্তর হিসেবে এটি কাজ করে। নিচের স্তরে রয়েছে স্বল্প-পাল্লার আয়রন বিম ও আয়রন ডোম, আর সর্বোচ্চ স্তরে দূর-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অ্যারো ব্যবস্থা।
নতুন দফার পরীক্ষার ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। তেহরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এই পরীক্ষার খবর সামনে এলো।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত থেকে পাওয়া ‘অপারেশনাল শিক্ষা’ কাজে লাগিয়ে এসব মহড়া পরিচালিত হয়েছে। এতে বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, পরীক্ষার সাফল্য ডেভিড’স স্লিং ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী অগ্রগতি। জুনের যুদ্ধে এই ব্যবস্থা উচ্চ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, বহু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করেছে।
ডেভিড’স স্লিং ২০১৭ সাল থেকে ইসরায়েলে সক্রিয়। এটি উন্নত হওয়ায় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যারো-৩ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডেভিড’স স্লিংয়ের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ হয়, যেখানে অ্যারো–৩ ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের খরচ আড়াই মিলিয়ন ডলারের বেশি।
যদিও ডেভিড’স স্লিং মূলত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য তৈরি নয়, তবু জুনের যুদ্ধে এটি মোতায়েন করা হয়। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া কয়েকটি প্রজেক্টাইল সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে এই ব্যবস্থা প্রধানত গাজা ও লেবানন থেকে হামাস এবং হিজবুল্লাহর ছোড়া মাঝারি-পাল্লার রকেট প্রতিরোধেই ব্যবহৃত হয়েছিল।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জুনের সংঘাতে ইরান থেকে ছোড়া প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজারের বেশি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন নয়; বরং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কৌশলগত বার্তারও অংশ।