ট্রাম্প মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কে এই কেভিন ওয়ার্শ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে মনোনীত করবেন, তা নিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। কারণ, তিনি বারবার সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়ে নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করার জন্য একটি অসাধারণ প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
ওয়ার্শ বলেছেন, হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ প্রয়োজন।
৫৫ বছর বয়সী ওয়ার্শ ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক গভর্নর ও ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন ব্যক্তি। ২০১৭ সালে তিনি ফেডের চেয়ারম্যান পদের জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ মে মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীকে সিনেটের অনুমোদন পেতে হবে।
নিউইয়র্কের বাসিন্দা ওয়ার্শ ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ছিলেন। এই সময়ে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন এবং জি–২০ দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন।
বর্তমানে তিনি স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি কুরিয়ার সেবা প্রতিষ্ঠান ইউপিএস, দক্ষিণ কোরিয়ার ই-কমার্স কোম্পানি কুপাং এবং বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী স্ট্যানলি ড্রুকেনমিলারের বিনিয়োগ সংস্থা ডুকসনে ফ্যামিলি অফিসে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়ার্শের স্ত্রী জেন লডার প্রসাধনী সাম্রাজ্য এস্টি লডারের নাতনি এবং বিলিয়নেয়ার রোনাল্ড লডারের কন্যা। রোনাল্ড লডার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিশেষ আগ্রহী হিসেবে পরিচিত এবং তিনি ট্রাম্পকে এই অঞ্চল অধিগ্রহণের প্রচেষ্টায় উৎসাহিত করেছিলেন।
ওয়ার্শ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর থেকে ফেডের অতিরিক্ত শিথিল মুদ্রানীতির কঠোর সমালোচক। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অস্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারিত ব্যালেন্স শিটও রয়েছে। একসময় তাকে একজন কড়া মুদ্রানীতির ‘বাজপাখি’ হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ঋণের খরচ কমানোর চাপের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরে ট্রাম্প ওয়ার্শ সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ‘তিনি মনে করেন সুদের হার কমানো দরকার।’
ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের স্টিফেন ব্রাউন বলেন, ওয়ার্শের ‘দীর্ঘদিনের বাজপাখিসুলভ অবস্থান ট্রাম্পের প্রভাবের কারণে তিনি পুরোপুরি নমনীয় হয়ে পড়বেন—এমন আশঙ্কা প্রশমিত করতে সহায়ক হবে।’
তবে ব্রাউন আরও সতর্ক করে বলেন, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক নীতিগুলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে—ওয়ার্শের এই দৃঢ় বিশ্বাস, পাশাপাশি ফেডের তুলনামূলকভাবে ছোট ব্যালেন্স শিট নিয়ে কাজ করার পক্ষে তার অবস্থান, দীর্ঘমেয়াদে বন্ড ইয়িল্ডের ওপর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান