রিয়াদে জ্বালানি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতির

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় কয়েকটি তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য হামলা বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি তারা।
শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়া দেখা যায়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুর দিকে আসা কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেছেন, রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। তার দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রায় ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতের সমস্যার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দরও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ কারণে ওই অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে হুতিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর সংঘাত চলছে। সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলার দাবি করেছে হুতিরা। এর মধ্যে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও রয়েছে।
এদিকে এএফপির এক প্রতিবেদনে অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শনিবার হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। হুতিরা তাদের ৩১ যোদ্ধা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে, আর ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে ১৭ সেনা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৬ জনের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
শনিবার রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, আরামকোর একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন দেখা যায় এবং দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। হামলার আগে রিয়াদ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। পরে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানায়।
হুতিরা একই সময়ে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে। তাদের ভাষ্য, ইয়েমেনে হুতি-নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর সৌদি অবরোধের জবাব হিসেবেই সমুদ্রপথে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লোহিত সাগরের এই সমুদ্রপথ সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে লোহিত সাগরীয় রুটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এদিকে, জেপি মরগান জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের পরিণতি এখনও অনিশ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে তেলের দামের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাবে, সেটিও এখন স্পষ্ট নয়।
