নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

উত্তর গাজা উপত্যকায় একটি সামরিক চৌকির ভেতরে নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত দুই সেনা রিজার্ভ সদস্য এবং ১৬তম ব্রিগেডের হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আইডিএফের ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি জানান, আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন ২৪ বছর বয়সি মেজর (রিজার্ভ) নাদাভ কালি, যিনি হার হালুতজের বাসিন্দা, এবং ২৩ বছর বয়সি মেজর (রিজার্ভ) অফেক মোয়ালেম, যিনি জেরুজালেমের বাসিন্দা।
তজুরি জানান, দুই সেনা একটি ড্রোন পরিচালনা করছিলেন। প্রথম অভিযান তারা সফলভাবে সম্পন্ন করেন। তবে দ্বিতীয় অভিযানের সময় ড্রোনটি উত্তর গাজার তাদের সামরিক চৌকির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়।
ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই সেনা ঘটনাস্থলটি পরিদর্শনে যান। এ সময় ড্রোনটি বিস্ফোরিত হলে তারা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান বলে জানান তজুরি।
তজুরি দুই সেনাকে ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন একটি স্কোয়াডের কমান্ডার ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ১৬তম ব্রিগেড গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর গাজার ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। ঘটনায় আর কোনো সেনা আহত হননি।
হামাসের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে আইডিএফ
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করছে আইডিএফ। ড্রোনটি ভূপাতিত করতে হামাস তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ব্যবহার করেছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তবে আইডিএফের প্রাথমিক ধারণা, এই ধরনের কৌশল পরিচালনার মতো কার্যকর সক্ষমতা বর্তমানে হামাসের নেই।
দুই সেনা ড্রোনটির কাছে যাওয়ার সময় বিস্ফোরক কীভাবে বিস্ফোরিত হলো, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। ড্রোনটি আত্মঘাতী ড্রোন ছিল, নাকি গোলাবারুদ নিক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত ড্রোন—এ বিষয়ে আইডিএফ বিস্তারিত জানায়নি।
গুরুতর এই ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা ও গোলাবারুদ বহনকারী ড্রোনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে আইডিএফ।
