হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরান-ইসরায়েলের
রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, লেবাননে হামলার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হামলার বিষয়ে প্রথমদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা না করার পরিকল্পনার খবর পাওয়া গেলেও পরে তারা ঠিকই ইরানে বিমান হামলা চালায়।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, সোমবার (৮ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে হামলার জবাবে এই প্রথম ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষোপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরানের ওপর হামলা স্থগিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (৮ জুন) ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত করেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলি শহরগুলোতে হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে হামলা চালাবে।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে ওই ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে আরও বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
এর আগে, ইরানও ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে সতর্ক করে দিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী জানায় যে, ইসরায়েল যদি সীমা লঙ্ঘন করে ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
এছাড়াও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, ইরান এখনও যুদ্ধের ময়দান ছাড়েনি, একইসঙ্গে চলমান আলোচনার টেবিলও ছেড়ে যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, দেশের অগ্রাধিকার হলো ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের জনগণের শান্তি’। ইরান কোনো হুমকির মুখে পিছু হটবে না।

ছবি: সংগৃহীত
আপাতত ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েল যদি সীমা লঙ্ঘন করে ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলো।’ পাশাপাশি বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরান ও লেবাননে হামলা চালাতে থাকে তেহরান ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর এবং শক্তিশালী জবাব দেবে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করছে, কিন্তু ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালে তা আবার শুরু করবে।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, ইরান এখনও যুদ্ধের ময়দান ছাড়েনি, একইসঙ্গে চলমান আলোচনার টেবিলও ছেড়ে যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, দেশের অগ্রাধিকার হলো ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের জনগণের শান্তি’। ইরান কোনো হুমকির মুখে পিছু হটবে না।
সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে একে অপরের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে। হামলায় অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যে তেহরান ও তেল আবিব ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (৮ জুন) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ও ইরান এখনই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে আগে থেকেই টিকে থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তিনি লিখেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। যদি কোনো ‘অজ্ঞতা বা ভুল সিদ্ধান্ত’ বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে একটি স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব।
ট্রাম্প আরও বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবরোধ বা চাপ প্রয়োগের ব্যবস্থা পুরোপুরি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে।
সিএনএন জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন যে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই চুক্তি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
এর আগে দেওয়া আরেক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উভয় পক্ষকে ‘গোলাগুলি’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে ‘গোলাগুলি’ বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছালে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম ধ্বংসে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের মাঝে চলা তিন মাসব্যাপী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তিনি যদি তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তাহলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংস করতে ইরানকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
আর যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীকে এমনভাবে দুর্বল করে দেবেন তিনি; তখন মার্কিন বাহিনী নিজেরাই নিরাপদে সেই উপাদান সংগ্রহ করতে পারবে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। ইইউ বলেছে, সমুদ্রপথে অবাধ জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করায় তেহরানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ইরান-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (৮ জুন) সাইপ্রাসে ইউক্রেন যুদ্ধ ও সামদ্রিক নিরাপত্তা ইইউ প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এর ফাঁকে সাংবাদিকদের এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়তি অবগত করেন ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস।
তিনি জানান, সমুদ্রপথে অবাধ জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে ইরানের কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি কালাস।
রয়র্টাস জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে ইইউ। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের মতো ব্যবস্থা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে ইইউ। পরে মার্চ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
গত এপ্রিল মাসে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত বা অবরোধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে ইইউ।
এদিকে রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, লেবাননে হামলার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হামলার বিষয়ে প্রথমদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা না করার পরিকল্পনার খবর পাওয়া গেলেও পরে তারা ঠিকই ইরানে বিমান হামলা চালায়।
ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলে। এরপর সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুতিরা।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও এর আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিকি ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, আজ সকালে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোরতে একাধিক পাল্টা হামলার পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে যে, তাদের সাম্প্রতিক সামরিক, নিরাপত্তা ও সাইবার অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি জানায়, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী রাতভর অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে দ্রুত ও ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ‘শতভাগ সফলতা’ অর্জিত হয়েছে। বার্তায় তারা লিখেছে, ‘১০০ রাতের প্রতিরোধ, ১০০ বছরের নিরাপত্তা।’
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইরান এসব পাল্টা অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, রোববার রাতে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই ঘাঁটি থেকেই লেবাননের বিরুদ্ধে অনেক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এছাড়া সোমবার সকালে ইসরায়েলের তেল নফ ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন নাসর (বিজয়)’ শুরু করার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দেশের রাডার স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান বা লেবাননের স্বার্থে নতুন কোনো হামলা হলে তার আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: তাসনিম

হাইফা শহরের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগেও হামলা চালায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত কারুন মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা। এ হামলার জবাবে ইরানও বদলা নিতে দেরি করেনি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা।
বাহিনীর আকস্মিক হামলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত কারুন মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামি রেভুল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।
এদিকে মাহশহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালায় ইসরায়েল। একে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছে, এর বদলা হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় অনুরূপ একটি কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে বেসামরিক ও জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও হামলা হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে। এর দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

লোহিত সাগরে শত্রুপক্ষের জাহাজে হুতির হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলে। এবার আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হুতিরা।
সোমবার (৮ জুন) সকালে মধ্য ইসরায়েল লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইসরায়েলি মালিকানাধীন বা ইসরায়েলগামী সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও এর আশেপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিকি ক্ষপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুনএখানে
হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে ইরান। রোববার (৭ জুন) রাতে হামলা শুরুর পর তৃতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
সোমবার (৮ জুন) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের রাডারে ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে— এমন আশঙ্কায় দেশটির একটি বিশাল অংশ জুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্য ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো শুরু হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

সৌদি আরবের আল-খারজ বিমান ঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলাকালীন সৌদি আরবের আল–খারজ বিমান ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনো গেছে।
হামলার পর সোমবার (৮ জুন) সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির আল–খারজ গভর্নরেটে সতর্কতা জারি করেছে।
এ হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। সোমবার ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরান আল–খারজ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

গুরুপূর্ণ বিমান ঘাঁটি নেভাতিমে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ভেতরে কয়েকটি রাডার স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে সোমবার (৮ জুন) তেল আবিবের অন্যতম প্রধান দুটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আমাদের পাল্টা হামলা মূলত ইসরায়েলকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে চালানো হয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নেভাতিম এবং তেল নোফ বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার ধরণ অনুমান করে ইরানের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগেই সাজানো ছিল, যার ফলেই এই তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে।
তবে ইরানের দাবি নাকচ করে দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সোমবার সকালে ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্র: সিনহুয়া, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর আকস্মিক হামলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত কারুন মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করেছে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো মাহশাহর এলাকার একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে বোমাবর্ষণ করেছে।
হামলার পর ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রটিতে আঘাত হানে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জোরালো বিমান হামলার কারণে খুজেস্তান প্রদেশের ওই পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাটির সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলেও এর বেশ কিছু অংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
0450Z
— Shin (@hey_itsmyturn) June 8, 2026
Salman Farsi Petrochemical Complex
Mahshahr, Khuzestan Province, #Iran
(Via @IliaHashemicom's TG) pic.twitter.com/TJMrjbDaFN
এদিকে আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোনে চালানো সামরিক অভিযানের ফলাফল ও ক্ষয়ক্ষতির আরও বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাছে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতির মধ্যে এবার জরুরি বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় এই বিশেষ নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে বৈঠকটি বড় আকারে না করে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে করা হচ্ছে। ইসরায়েল সরকারের হাতেগোনা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ মন্ত্রী অংশ নেবেন বৈঠকে। ইরানের সঙ্গে চলমান এই নতুন সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণ করতেই মূলত নেতানিয়াহু এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলের দিকে আরও এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আইডিএফ।
এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানে দ্বিতীয় দফার হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বীরশেবা এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজে।
ইসরায়েলি প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানের চালানো এই দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মানুষের হতাহত বা জখম হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, এই হুমকি প্রতিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কাজ করছে।
সতর্কবার্তা পেলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইডিএফ।
ইসরায়েলে এবার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের জেরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব এবং জেরুজালেমের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ মধ্য ইসরায়েলের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো শুরু হয়। এতে অঞ্চলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হুতিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার জন্য তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইসরায়েলে হুতিদের আকস্মিক হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, তাদের বিমান বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরানি স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি পাল্টা হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরজুড়ে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে তিন শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে চালানো এ অভিযানের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
নাটকীয় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হামলা পেছানোর কূটনৈতিক তোড়জোড় চলার মাঝে এই হামলা চালাল ইসরায়েল। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প বার্তা দিয়েছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে আপাতত কোনো ধরনের পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের অনুরোধ বা হামলা পেছানোর কূটনৈতিক পরিকল্পনা না মেনে ইরানে এ বিমান হামলা চালিয়ে বসেছেন নেতানিয়াহু।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তিন শহরের সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বোমাবর্ষণ করে। এই হামলার পর ইরান নতুন করে কোনো পাল্টা জবাব দেয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করতে ‘রাজি’ হয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটনকে আরও কয়েকটা দিন সময় দিতে ট্রাম্পের অনুরোধ রক্ষা করেছে তেল আবিব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের হামলার পরপর রোববার (৭ জুন) রাতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা, তিন মাস ধরে চলা এ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ওয়াশিংটন। ফোনালাপের শুরুতে নেতানিয়াহু এই অনুরোধের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ইরানে সরাসরি হামলার জন্য ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দিতে বাধ্য হন।
প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুই নেতার এই ফোনালাপকে বেশ শান্তিপূর্ণ ও শান্ত মেজাজের বলে বর্ণনা করেছেন। গত সপ্তাহে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প জনসমক্ষে নেতানিয়াহুকে গালিগালাজ ও চিৎকার করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে আজ রাতের ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মোটেও উত্তেজিত হননি বা গলার স্বর উঁচুতে তোলেননি।
ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউসের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি হামলা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কিছুটা মূল্যবান সময় বের করতে পেরেছেন।
এই মুহূর্তে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড় কোনো হামলার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এখন চুক্তির একদম শেষ মুহূর্তে বা চতুর্থ কোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তিকে কেন আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলব? প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এখন এই যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সময়।’
অবশ্য ইসরায়েলে এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা পরও নেতানিয়াহু তার দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক করছিলেন।
সংবাদমাধ্যমটির আরেক প্রতিবেদনে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আজ সকালে বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার পেছনে হোয়াইট হাউসের কোনো সবুজ সংকেত বা অনুমোদন ছিল না। মূলত ইসরায়েলের ওই হামলার জের ধরে ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে একটি চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই রোববার (৭ জুন) রাতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, এই অঞ্চলের সমস্ত সিদ্ধান্ত তিনিই (ট্রাম্প) নিচ্ছেন। তাই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তিই করুক না কেন, তাকে (নেতানিয়াহু) তা মেনে নিতে হবে। তার ভাষায়, আমিই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি... তিনি (নেতানিয়াহু) সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইসরায়েলের ওপর ইরানের হামলা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তার ইচ্ছাকে পরিবর্তন করেনি। তিনি বলেন, চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তোমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছ, এবার তা বন্ধ কর। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসো এবং একটি চুক্তি কর।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে ট্রাম্প বলেছেন, আমি এখনই বিবি (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডাক নাম)-কে ফোন করে বলব যে ইরানে যেন পাল্টা হামলা না চালানো হয়। তারা উভয়েই মজা নিয়েছে— ইসরায়েল নিজেদের মতো করে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানও তা-ই করেছে। আমাদের আর হামলার প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের হামলায় কেউ আঘাত পায়নি। আশা করছি, ইসরায়েল প্রতিশোধ নেবে না। তবে যদি বিবি পাল্টা হামলা চালান, তাহলে এটা গত ৪৭ বছর বা ৩ হাজার বছরের মতোই চলতে থাকবে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা ও বিমানবন্দরটির যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
এর আগে স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েল বলছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটেছে এ হামলা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কিছুক্ষণ আগে বলেছে যে, শনিবার (৬ জুন) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলার পর আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের দিকে সম্ভাব্য গোলাবর্ষণের আশঙ্কায় তারা ‘হাই অ্যালার্ট’ বা ‘উচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে।
আইআরজিসির বরাতে জানা গেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হামলার জবাব দিতে উত্তর ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত হওয়ার পর হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের অন্যান্য এলাকায় সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানায়, এ পর্যন্ত ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ‘আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ’ করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজায়ি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান বারবার বলেছে যে, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সহ্য করবে না। আজ রাতে আমরা আগ্রাসনকারীদের জবাব দিলাম।
তিনি আরও বলেন, এ জবাব শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা। অশুভ শক্তি যদি এই সতর্কবার্তা আমলে না নেয়, পরবর্তী আঘাত হবে আরও ব্যাপক এবং এজন্য আগ্রাসনকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গিভর এক এক্সবার্তায় বলেছেন, তেহরানকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।