ইরান ভালোভাবে আলোচনা করতে চায় না, দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান ভালো করে আলোচনা করতে চায় না। আলোচনায় বসতে চাইলেও সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটন যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায় তেহরান তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মনে করেন তিনি।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ইরান সমঝোতা করতে চায় ঠিকই, কিন্তু যা করা প্রয়োজন তা করার মানসিকতা এখনও তাদের গড়ে ওঠেনি। তবে আমি বিশ্বাস করি, অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে তারা অবশ্যই আলোচনার টেবিলে আসবে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়। তিনি জানান, ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো একটি আন্তর্জাতিক জোট তৈরি করা, যারা যৌথভাবে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি সচল রাখতে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক জোট ন্যাটো ও চীনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। সামরিক শক্তি ও কূটনীতির সংমিশ্রণে তৈরি এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো— উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও সক্রিয় করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তি হলো অনেক মার্কিন মিত্র দেশ জ্বালানি তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি নির্ভরশীল। তাই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর না রেখে এসব দেশের উচিত নিজস্ব সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন যেন দ্রুত ওই এলাকায় জাহাজ পাঠায়। ইরান বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে, তাই হরমুজ প্রণালি আর হুমকির কারণ হওয়া উচিত নয়। তবে ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ রাষ্ট্রই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছে।
এদিকে তিনি ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা এই সংকটে এগিয়ে না আসে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘অন্ধকার’ বা ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে। সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন।