logo

ইরান আলোচনায় বসলেও শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ইরান আলোচনায় বসলেও শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনার মধ্যেই নতুন করে চাপ বাড়ানোর পথে হাঁটলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তেহরান প্রথম দফার আলোচনা ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছে। ট্রাম্পও আলোচনাকে ‘ভালো’ বলে দাবি করেছেন এবং আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার কথাও বলেছেন।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা ফলপ্রসূ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি ও চাপ প্রয়োগের পথ থেকে সরে আসতে হবে। তবে তেহরানের এই আহ্বানে সাড়া দেননি ট্রাম্প। বরং উল্টো পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালেই এই সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপকে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। খবর বিবিসির।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে স্বাক্ষর করা নির্বাহী আদেশে নির্দিষ্ট হারের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, যেকোনো দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা সেবা কিনলে, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

এই নির্বাহী আদেশ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথ বলার সময় তিনি আবারও বলেন, ইরানে জন্য ‘কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়’, এটাই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।

ওমানে মার্কিন ও ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই এই আদেশ জারি করা হলো। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে হুমকি-পাল্টা হুমকি চলছিল।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। গত ১২ জানুয়ারি দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে। তবে তখন শুল্ক কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সর্বশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘ইরানসংক্রান্ত চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থা’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট আদেশটি সংশোধন করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার ওমানে শুরু হওয়া এই আলোচনা গত জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক উদ্যোগ। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাত জ্যারেড কুশনার।

আলোচনা শেষে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ হয়েছে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে চুক্তি না হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরেক দফা আলোচনার কথা জানান ট্রাম্প।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি জানান, এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়েছে।

এদিকে আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলোচনাকে ‘শুভসূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তিনি বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে আলোচকেরা নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে গেছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।