logo

এশিয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমিয়েছে সৌদি আরব

এশিয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমিয়েছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে টানা দুই মাসের মতো এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সংরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছে সৌদি আরব। আগামী এপ্রিলে এশিয়ায় তেলের সরবরাহ আগের চেয়ে কম থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেল সরবরাহ।

রয়টার্স জানায়, রপ্তানির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় সৌদি আরব এরইমধ্যে দৈনিক জ্বালানি তেল উৎপাদন ২৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

বেলজিয়ামভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ ও তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আরামকো চলতি মার্চে দৈনিক গড়ে ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল দৈনিক ৭১ লাখ ব্যারেল। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে ৩৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

রয়টার্স জানায়, সৌদি আরবের এ সরবরাহ হ্রাসের ফলে এশিয়ার শোধনাগারগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এশীয় শোধনাগারগুলোকে এখন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম জ্বালানি তেল নিয়ে কাজ চালাতে অথবা বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হবে।

বর্তমানে সৌদি আরব জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরান বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট জাহাজকে রাজনৈতিক বিবেচনায় পারাপারের সুযোগ দিচ্ছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দরকে প্রধান বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। এ রুট দিয়ে জ্বালানি তেল পাঠাতে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

সৌদি আরব চলতি মাসে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে জ্বালানি তেল রপ্তানি রেকর্ড পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এ বন্দর দিয়ে দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করা হবে।