ককরোচ নেতা অভিজিতের বাবার সম্পদের উৎস কী, তদন্তের দাবি

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাবার আয়ের উৎস কী এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন এক তথ্য অধিকার (আরটিআই) কর্মী। দিল্লি পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের জন্য সিজিপি ১ কোটি টাকার আইনি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করার পর এই তদন্তের দাবি উঠল।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গুজরাটের সুরাটভিত্তিক আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি এই অনুসন্ধানের আবেদন করেছেন। তিনি সিজিপির তহবিল গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সংগঠনটির প্রধান অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকের সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানান।
মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের সাবেক কর্মচারী ভগবানরাওয়ের আয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিজিতের পড়ার বিপুল খরচ কীভাবে চালানো সম্ভব হলো, মূলত তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে গত ৬ জুন ভারতে ফেরেন অভিজিৎ দীপকে। দেশে ফিরে তিনি ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেন।
অভিযোগকারী অমিত তিওয়ারি বলেন, ‘আমি মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। ভগবানরাও দীপকে এমআইডিসির একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি যদি মাসে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন, তবে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো জায়গায় নিজের সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব হলো?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, যেন পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হয়। এটি যদি তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা হয়ে থাকে, তবে যেন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
নজরদারিতে সিজিপির আইনি সাহায্য তহবিলও
অভিজিৎ দীপকের পারিবারিক সম্পত্তির পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির সংগৃহীত তহবিল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কপিল সিবাল দলটির আন্দোলনকারীদের জন্য ১ কোটি টাকার আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানান। এ নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ওই অধিকারকর্মী।
পিটিআইকে দেওয়া বক্তব্যে অমিত তিওয়ারি বলেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি কোনো নিবন্ধিত দল নয়, কিন্তু তারা একটি রাজনৈতিক দলের মতো সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদি এই সংস্থাকে আইনি সহায়তা তহবিলের নামে ১ কোটি টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়ে থাকে, তবে নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত দলটি ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারায় নিবন্ধিত কি না।’
সংগঠনটি নিবন্ধিত না হলে তহবিল সংগ্রাহকদের উদ্দেশ্য ও পুরো প্রক্রিয়া আইনগতভাবে পরীক্ষা করা দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে, আইনি সহায়তা তহবিলের ১ কোটি টাকার ওপর প্রযোজ্য ১৮ শতাংশ জিএসটি কপিল সিবাল কোথায় পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিওয়ারি।
আন্দোলনের নামে কটূক্তির অভিযোগ
সিজিপির সাম্প্রতিক আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে ওই অধিকারকর্মী জানান, নীতিগত ইস্যুতে প্রতিবাদ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সংগঠনটি এখন পথ হারিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিওয়ারি বলেন, ‘আমরা প্রবীণ ও গুণীজনদের সম্মান করি। আপনারা যতক্ষণ সিজিপির ব্যানারে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, ততক্ষণ সব ঠিকই ছিল। কিন্তু আন্দোলনের মাঝে আপনারা হঠাৎ করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন গালিগালাজ শুরু করলেন। এমনকি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আপনারা অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন। আমরা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অন্যায়।’

