জ্বালানি খরচ বাড়ায় ট্রাম্প ও পুতিনের ওপর আমি বিরক্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কর্মকাণ্ডের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে পুতিন ও ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশের সাধারণ পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জ্বালানি বিল বারবার ওঠানামা করছে। বিষয়টি নিয়ে আমি সত্যিই বিরক্ত।’
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আইটিভি নিউজের এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। পরে তাকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের ৫ সপ্তাহের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন স্টারমার।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা চলছে। তার ওপর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এ অবস্থায় দুই পরাশক্তিকে অভিযুক্ত করলেন স্টারমার।
এ ছাড়া স্টারমার চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে একে ‘ভুল’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানও অভিযোগ করেছে যে, লেবাননে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের মুখপাত্র অ্যানা কেলি তার এই সমালোচনার জবাবে বলেছেন, ‘বিশ্ব নেতারা দশকের পর দশক ইরানের হুমকি নিয়ে শুধু কথাই বলেছেন, কাজের কাজ কিছু করেননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে চলতি বছরের বাকি সময়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ছাড়া এসব অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ারও সতর্কতা দিয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এই সংঘাতকে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বলে আখ্যায়িত করেন।
এডিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি এই শত্রুতা বা সংঘাত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে এশিয়া প্যাসিফিকের প্রবৃদ্ধি গত বছরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা গত বছর ছিল ৩ শতাংশ।
এ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছেই। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। পাশাপাশি পরমাণু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটি। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেছেন, ‘দেশের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কমানো হবে না।’
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘কথার ফুলঝুরি যতই হোক, মূল কথা হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখা হবে। আমাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আছে ও বিশ্রাম নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তারা পরবর্তী সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করছে।’